b Sanatan Dharma - সনাতন ধর্ম: আন্তর্জাতিক

https://a-ads.com/

ব্রেকিং নিউজ

সর্বশেষ সংবাদ সবার আগে বিস্তারিত জানতে চোখ রাখুন । আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য বিজ্ঞাপন দিন। বিজ্ঞপ্তি: জরুরী সংবাদকর্মী নিয়োগ চলিতেছে…। আপনি কি কম খরচে Website, Bloggersite, Youtube channel, E-commica site তৈরি করতে চান? যোগাযোগ করুন বিস্তারিত : মোবাইল: 01712475454,01940103713 , দেশ - বিদেশের খবর সবার আগে জানতে সাথে থাকুন।আমাদের সংঙ্গে থাকার জন্য ধন্যবাদ এ রকম আরও ভিডিও/ সর্বশেষ সংবাদ Update News পেতে আমাদের Website /Youtube Channel পেইজে লাইক দিন৷ ❤️ ✌ ✔️ কোন মতামত বা প্রশ্ন থাকলে কমোন্ট করে জানান।
Showing posts with label আন্তর্জাতিক. Show all posts
Showing posts with label আন্তর্জাতিক. Show all posts

Saturday, September 11, 2021

জমি-জমা সংক্রান্ত সমস্যা ও সমাধ

 

জমি-জমা সংক্রান্ত সমস্যা ও সমাধ এবং জমির খতিয়ানের  কি কি নাম ?

= ''খতিয়ান'' কি?
= ''সি এস খতিয়ান'' কি?
= ''এস এ খতিয়ান'' কি?
= ''আর এস খতিয়ান'' কি?
= ''বি এস খতিয়ান'' কি?
=“দলিল” কাকে বলে?
=“খানাপুরি” কাকে বলে?
= ''নামজারি'' কাকে বলে ?
=“তফসিল” কাকে বলে?
=“দাগ” নাম্বার/''কিত্তা'' কাকে বলে?
= “ছুটা দাগ” কাকে বলে?
= ''পর্চা'' কাকে বলে ?
= ''চিটা'' কাকে বলে ?
atOptions = { 'key' : '60c5f5a2c9b46ac1d73ce3a901a3c715', 'format' : 'iframe', 'height' : 90, 'width' : 728, 'params' : {} }; document.write('');
start; transition-property: none;">= ''দখলনামা'' কাকে বলে ?
= “খাজনা” ককে বলে?
= ''বয়নামা'' কাকে বলে ?
= ''জমাবন্দি'' কাকে বলে ?
= ''দাখিলা'' কাকে বলে ?
= ''DCR'' কাকে বলে ?
=“কবুলিয়ত” কাকে বলে ?
= “ফারায়েজ” কাকে বলে?
= “ওয়ারিশ” কাকে বলে?
= ''হুকুমনামা'' কাকে বলে ?
= ''জমা খারিজ'' কাকে বলে ?
= ''মৌজা'' কি/ কাকে বলে ?
= “আমিন” কাকে বলে?
= “কিস্তোয়ার” কাকে বলে?
= “সিকস্তি” কাকে বলে ?
= “পয়ন্তি” কাকে বলে?
''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''''
=খতিয়ানঃ
মৌজা ভিত্তিক এক বা একাধিক ভূমি মালিকের ভূ-সম্পত্তির বিবরণ সহ যে ভূমি রেকর্ড জরিপকালে প্রস্ত্তত করা হয় তাকে খতিয়ান বলে। এতে ভূমধ্যাধিকারীর নাম ও প্রজার নাম, জমির দাগ নং, পরিমাণ, প্রকৃতি, খাজনার হার ইত্যাদি লিপিবদ্ধ থাকে। আমাদের দেশে বিভিন্ন ধরনের খতিয়ানের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। তন্মধ্যে সিএস, এসএ এবং আরএস উল্লেখযোগ্য। ভূমি জরিপকালে ভূমি মালিকের মালিকানা নিয়ে যে বিবরণ প্রস্তুত করা হয় তাকে “থতিয়ান” বলে। খতিয়ান প্রস্তত করা হয় মৌজা ভিত্তিক।
.
= সি এস খতিয়ানঃ
১৯১০-২০ সনের মধ্যে সরকারি আমিনগণ প্রতিটি ভূমিখণ্ড পরিমাপ করে উহার আয়তন, অবস্থান ও ব্যবহারের প্রকৃতি নির্দেশক মৌজা নকশা এবং প্রতিটি ভূমিখন্ডের মালিক দখলকারের বিররণ সংবলিত যে খতিয়ান তৈরি করেন সিএস খতিয়ান নামে পরিচিত।
.
=এস এ খতিয়ানঃ
১৯৫০ সালের জমিদারি অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন পাসের পর সরকার জমিদারি অধিগ্রহণ করেন। তৎপর সরকারি জরিপ কর্মচারীরা সরেজমিনে মাঠে না গিয়ে সিএস খতিয়ান সংশোধন করে যে খতিয়ান প্রস্তুত করেন তা এসএ খতিয়ান নামে পরিচিত। কোনো অঞ্চলে এ খতিয়ান আর এস খতিয়ান নামেও পরিচিত। বাংলা ১৩৬২ সালে এই খতিয়ান প্রস্তুত হয় বলে বেশির ভাগ মানুষের কাছে এসএ খতিয়ান ৬২র
খতিয়ান নামেও পরিচিত।
.
= আর এস খতিয়ানঃ
একবার জরিপ হওয়ার পর তাতে উল্লেখিত ভুলত্রুটি সংশোধনের জন্য পরবর্তীতে যে জরিপ করা হয় তা আরএস খতিয়ান নামে পরিচিত। দেখা যায় যে, এসএ জরিপের আলোকে প্রস্তুতকৃত খতিয়ান প্রস্তুতের সময় জরিপ কর্মচারীরা সরেজমিনে তদন্ত করেনি। তাতে অনেক ত্রুটি-বিচ্যুতি রয়ে গেছে। ওই ত্রুটি-বিচ্যুতি দূর করার জন্য সরকার দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরেজমিনে ভূমি মাপ-ঝোঁক করে পুনরায় খতিয়ান প্রস্তুত করার উদ্যোগ নিয়েছেন। এই খতিয়ান আরএস খতিয়ান নামে পরিচিত। সারাদেশে এখন পর্যন্ত তা সমাপ্ত না হলেও অনেক জেলাতেই আরএস খতিয়ান চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত হয়েছে।
সরকারি আমিনরা মাঠে গিয়ে সরেজমিনে জমি মাপামাপি করে এই খতিয়ান প্রস্তুত করেন বলে তাতে ভুলত্রুটি কম লক্ষ্য করা যায়। বাংলাদেশের অনেক এলাকায় এই খতিয়ান বি এস খতিয়ান নামেও পরিচিত।
.
= বি এস খতিয়ানঃ
সর্ব শেষ এই জরিপ ১৯৯০ সা পরিচালিত হয়। ঢাকা অঞ্চলে মহানগর জরিপ হিসাবেও পরিচিত।
.
= “দলিল” কাকে বলে?
যে কোন লিখিত বিবরণ আইনগত সাক্ষ্য হিসাবে গ্রহণযোগ্য তাকে দলিল বলা হয়। তবে রেজিস্ট্রেশন আইনের বিধান মোতাবেক জমি ক্রেতা এবং বিক্রেতা সম্পত্তি হস্তান্তর করার জন্য যে চুক্তিপত্র সম্পাদন ও রেজিস্ট্রি করেন সাধারন ভাবেতাকে দলিল বলে।
.
= “খানাপুরি” কাকে বলে?
জরিপের সময় মৌজা নক্সা প্রস্তুত করার পর খতিয়ান প্রস্তুতকালে খতিয়ান ফর্মের প্রত্যেকটি কলাম জরিপ কর্মচারী কর্তৃক পূরন করার প্রক্রিয়াকে খানাপুরি বলে।
.
= নামজারি কাকে বলে ?
ক্রয়সূত্রে/উত্তরাধিকার সূত্রে অথবা যেকোন সূত্রে জমির নতুন মালিক হলে নতুন মালিকের নাম সরকারি খতিয়ানভুক্ত করার প্রক্রিয়াকে নামজারী বলা হয়।
.
= “তফসিল” কাকে বলে?
জমির পরিচয় বহন করে এমন বিস্তারিত বিবরণকে “তফসিল” বলে। তফসিলে, মৌজার নাম, নাম্বার, খতিয়ার নাম্বার, দাগ নাম্বার, জমির চৌহদ্দি, জমির পরিমাণ সহ ইত্যাদি তথ্য সন্নিবেশ থাকে।
.
= “দাগ” নাম্বার কাকে বলে? / কিত্তা কি ?
দাগ শব্দের অর্থ ভূমিখ-। ভূমির ভাগ বা অংশ বা পরিমাপ করা হয়েছে এবং যে সময়ে পরিমাপ করা হয়েছিল সেই সময়ে ক্রম অনুসারে প্রদত্ত ওই পরিমাপ সম্পর্কিত নম্বর বা চিহ্ন।
যখন জরিপ ম্যাপ প্রস্তুত করা হয় তখন মৌজা নক্সায় ভূমির সীমানা চিহ্নিত বা সনাক্ত করার লক্ষ্যে প্রত্যেকটি ভূমি খন্ডকে আলাদা আলাদ নাম্বার দেয়া হয়। আর এই নাম্বারকে দাগ নাম্বার বলে। একেক দাগ নাম্বারে বিভিন্ন পরিমাণ ভূমি থাকতে পারে। মূলত, দাগ নাম্বার অনুসারে একটি মৌজার অধীনে ভূমি মালিকের সীমানা খূটিঁ বা আইল দিয়ে সরেজমিন প্রর্দশন করা হয়। দাগকে কোথাও কিত্তা বলা হয়।
.
= “ছুটা দাগ” কাকে বলে?
ভূমি জরিপকালে প্রাথমিক অবস্থায় নকশা প্রস্তুত অথবা সংশোধনের সময় নকশার প্রতিটি ভূমি এককে যে নাম্বার দেওয়া হয় সে সময় যদি কোন নাম্বার ভুলে বাদ পড়ে তাবে ছুটা দাগ বলে। আবার প্রাথমিক পর্যায়ে যদি দুটি দাগ একত্রিত করে নকশা পুন: সংশোধন করা হয় তখন যে দাগ নাম্বার বাদ যায় তাকেও ছুটা দাগ বলে।
.
= পর্চা কীঃ / “পর্চা” কাকে বলে?
ভূমি জরিপকালে চূড়ান্ত খতিয়ান প্রস্তত করার পূর্বে ভূমি মালিকদের নিকট খসড়া খতিয়ানের যে অনুলিপি ভুমি মালিকদের প্রদান করা করা হয় তাকে “মাঠ পর্চা” বলে। এই মাঠ পর্চা রেভিনিউ/রাজস্ব অফিসার কর্তৃক তসদিব বা সত্যায়ন হওয়ার পর যদি কারো কোন আপত্তি থাকে তাহলে তা শোনানির পর খতিয়ান চুড়ান্তভাবে প্রকাশ করা হয়। আর চুড়ান্ত খতিয়ানের অনুলিপিকে “পর্চা” বলে।
.
= চিটা কাকে বলে?
একটি ক্ষুদ্র ভূমির পরিমাণ, রকম ইত্যাদির পূর্ণ বিবরণ চিটা নামে পরিচিত। বাটোয়ারা মামলায় প্রাথমিক ডিক্রি দেয়ার পর তাকে ফাইনাল ডিক্রিতে পরিণত করার আগে অ্যাডভোকেট কমিশনার সরেজমিন জমি পরিমাপ করে প্রাথমিক ডিক্রি মতে সম্পত্তি এমনি করে পক্ষদের বুঝায়ে দেন। ওই সময় তিনি যে খসড়া ম্যাপ প্রস্তুত করেন তা চিটা বা চিটাদাগ নামে পরিচিত।
.
= দখলনামা কাকে বলে?
দখল হস্তান্তরের সনদপত্র। সার্টিফিকেট জারীর মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি কোনো সম্পত্তি নিলাম খরিদ করে নিলে সরকার পক্ষ সম্পত্তির ক্রেতাকে দখল বুঝিয়ে দেয়ার পর যে সনদপত্র প্রদান করেন তাকে দখলনামা বলে।
সরকারের লোক সরেজমিনে গিয়ে ঢোল পিটিয়ে, লাল নিশান উড়ায়ে বা বাঁশ গেড়ে দখল প্রদান করেন। কোনো ডিক্রিজারির ক্ষেত্রে কোনো সম্পত্তি নিলাম বিক্রয় হলে আদালত ওই সম্পত্তির ক্রেতাকে দখল বুঝিয়ে দিয়ে যে সার্টিফিকেট প্রদান করেন তাকেও দখলনামা বলা হয়। যিনি সরকার অথবা আদালতের নিকট থেকে কোনো সম্পত্তির দখলনামা প্রাপ্ত হন, ধরে নিতে হবে যে, দখলনামা প্রাপ্ত ব্যক্তির সংশ্লিষ্ট সম্পত্তিতে দখল আছে।
.
= “খাজনা” ককে বলে?
সরকার বার্ষিক ভিত্তিতে প্রজার নিকট থেকে ভূমি ব্যবহারের জন্য যে কর আদায় করে তাকে খাজনা বলে।.
.
= বয়নামা কাকে বলে?
১৯০৮ সালের দেওয়ানি কার্যবিধির ২১ আদেশের ৯৪ নিয়ম অনুসারে কোনো স্থাবর সম্পত্তির নিলাম বিক্রয় চূড়ান্ত হলে আদালত নিলাম ক্রেতাকে নিলামকৃত সম্পত্তির বিবরণ সংবলিত যে সনদ দেন তা বায়নামা নামে পরিচিত।
বায়নামায় নিলাম ক্রেতার নামসহ অন্যান্য তথ্যাবলি লিপিবদ্ধ থাকে। কোনো নিলাম বিক্রয় চূড়ান্ত হলে ক্রেতার অনুকূলে অবশ্যই বায়নামা দিতে হবে।
যে তারিখে নিলাম বিক্রয় চূড়ান্ত হয় বায়নামায় সে তারিখ উল্লেখ করতে হয়।
.
= জমাবন্দিঃ
জমিদারি আমলে জমিদার বা তালুকদারের সেরেস্তায় প্রজার নাম, জমি ও খাজনার বিবরণী লিপিবদ্ধ করার নিয়ম জমাবন্দি নামে পরিচিত। বর্তমানে তহশিল অফিসে অনুরূপ রেকর্ড রাখা হয় এবং তা জমাবন্দি নামে পরিচিত।
.
= দাখিলা কাকে বলে?
সরকার বা সম্পত্তির মালিককে খাজনা দিলে যে নির্দিষ্ট ফর্ম বা রশিদ ( ফর্ম নং১০৭৭) প্রদান করা হয় তা দাখিলা বা খাজনার রশিদ নামে পরিচিত।
দাখিলা কোনো স্বত্বের দলিল নয়, তবে তা দখল সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ বহন করে।
.
= DCR কাকে বলে?
ভূমি কর ব্যতিত আন্যান্য সরকারি পাওনা আদায় করার পর যে নির্ধারিত ফর্মে (ফর্ম নং ২২২) রশিদ দেওয়া হয় তাকে DCR বলে।
.
=“কবুলিয়ত” কাকে বলে?
সরকার কর্তৃক কৃষককে জমি বন্দোবস্ত দেওয়ার প্রস্তাব প্রজা কর্তৃক গ্রহণ করে খাজনা প্রদানের যে অঙ্গিকার পত্র দেওয়া হয় তাকে কবুলিয়ত বলে।
.
= “ফারায়েজ” কাকে বলে?
ইসলামি বিধান মোতাবেক মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি বন্টন করার নিয়ম ও প্রক্রিয়াকে ফারায়েজ বলে।
.
= “ওয়ারিশ” কাকে বলে?
ওয়ারিশ অর্থ উত্তরাধিকারী । ধর্মীয় বিধানের অনুয়ায়ী কোন ব্যক্তি উইল না করে মৃত্যু বরন করলেতার স্ত্রী, সন্তান বা নিকট আত্মীয়দের মধ্যে যারা তার রেখে যাওয়া সম্পত্তিতে মালিক হওয়ার যোগ্যতাসম্পন্ন এমন ব্যক্তি বা ব্যক্তিগণকে ওয়ারিশ বলে।
.
= হুকুমনামা কাকে বলে?
আমলনামা বা হুকুমনামা বলতে জমিদারের কাছ থেকে জমি বন্দোবস্ত নেয়ার পর প্রজার স্বত্ব দখল প্রমাণের দলিলকে বুঝায়। সংক্ষেপে বলতে গেলে জমিদার কর্তৃক প্রজার বরাবরে দেয়া জমির বন্দোবস্ত সংক্রান্ত নির্দেশপত্রই আমলনামা।
.
= জমা খারিজ কিঃ
জমা খারিজ অর্থ যৌথ জমা বিভক্ত করে আলাদা করে নতুন খতিয়ান সৃষ্টি করা। প্রজার কোন জোতের কোন জমি হস্তান্তর বা বন্টনের কারনে মূল খতিয়ান থেকে কিছু জমি নিয়ে নুতন জোত বা খতিয়ান খোলাকে জমা খারিজ বলা হয়। অন্য কথায় মূল খতিয়ান থেকে কিছু জমির অংশ নিয়ে নতুন জোত বা খতিয়ান সৃষ্টি করাকে জমা খারিজ বলে।
.
= “মৌজা” কাকে বলে?
CS জরিপ / ক্যাডষ্টাল জরিপ করা হয় তখন থানা ভিত্তিক এক বা একাধিক গ্রাম, ইউনিয়ন, পাড়া, মহল্লা অালাদা করে বিভিন্ন এককে ভাগ করে ক্রমিক নাম্বার দিয়ে চিহ্তি করা হয়েছে। আর বিভক্তকৃত এই প্রত্যেকটি একককে মৌজা বলে।। এক বা একাদিক গ্রাম বা পাড়া নিয়ে একটি মৌজা ঘঠিত হয়।
.
= “আমিন” কাকে বলে?
ভূমি জরিপের মাধ্যমে নক্সা ও খতিয়ান প্রস্তত ও ভূমি জরিপ কাজে নিজুক্ত কর্মচারীকে আমিন বলে।
.
= “কিস্তোয়ার” কাকে বলে?
ভূমি জরিপ কালে চতুর্ভুজ ও মোরব্বা প্রস্তত করার পর সিকমি লাইনে চেইন চালিয়ে সঠিকভাবে খন্ড খন্ড ভুমির বাস্তব ভৌগলিক চিত্র অঙ্কনের মাধ্যমে নকশা প্রস্তুতের পদ্ধতিকে কিস্তোয়ার বলে।
.
= “সিকস্তি” কাকে বলে?
নদী ভাংঙ্গনের ফলে যে জমি নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যায় তাকে সিকন্তি বলে। সিকন্তি জমি যদি ৩০ বছরের মধ্যে স্বস্থানে পয়ন্তি হয় তাহলে সিকন্তি হওয়ার প্রাক্কালে যিনি ভূমি মালিক ছিলেন তিনি বা তাহার উত্তরাধিকারগন উক্ত জমির মালিকানা শর্ত সাপেক্ষ্যে প্রাপ্য হবেন।
= “পয়ন্তি” কাকে বলে?
নদী গর্ভ থেকে পলি মাটির চর পড়ে জমির সৃষ্টি হওয়াকে পয়ন্তি বলে।
ধন্যবাদান্তেঃ
মিলটন মন্ডল
মোবাইল--01611304690
 Source of: online
 
#জমিজমাসংক্রান্তবই pdf, #মামলাচলাকালিনজমিবেচাকেনাকরাযায়কিনা, #জমিরসমস্যা, #জমিরমালিকানাবেরকরারউপায়, #জমিজমাসংক্রান্তমামলা,
 

Friday, July 23, 2021

৮উপায়ে চিনে নিন চরিত্রহীন নারী কেমন হয়!

 

৮উপায়ে চিনে নিন চরিত্রহীন নারী কেমন হয়!





একই সময়ে বহুপুরুষের স’ঙ্গে সদ্ভাব রাখতে পছন্দ করে এমন নারীর সংখ্যা দিনে দিনে বেড়েই চলেছে। বিশ্বস্ত একজন নারী, যার সাথে ঘর বেঁধে সুখে জীবন কা’টানো যায় এমনটা খুঁজতে রীতিমত ঘাম ছুটে যায় তাই অনেক পুরুষের। কিন্তু জীবনকে সুন্দর করতে একজন চরিত্রবান স’ঙ্গীর বিকল্প নেই।

যারা জীবনস’ঙ্গী খুঁজছেন, তাদেরকে তাই অবশ্যই জানতে হবে অসৎ নারীদের চেনার উপায়। তাহলে চরিত্রবান নারীস’ঙ্গী নির্বাচনে আপনি অনেকটাই নিরাপদ থাকবেন। চলুন জানা যাক অসৎ নারীদের চেনার ৮টি উপায় আপনার চেহারা থেকে কিভাবে 10 বছর কমিয়ে ফেলবেন তার গোপন সূত্রWellnessঘুমানোর আগে পান করুন-পেট ও পার্শ্বস্থ স্থান সবচেয়ে প্রথমে কমবে

১. ল’জ্জাই নারীর ভূষণ। কিন্তু অসৎ নারী আপাত ভদ্র হলেও তাদের মধ্যে নির্লজ্জ হাবভাব প্রকাশ পায়। পুরুষের চোখের দিকে চেয়ে থেকে এমনভাবে, যেন তার ভিতরটা পড়ে ফেলছে। নারীর ওই দৃষ্টি পুরুষের সর্বনাশের কারণ। এমন মেয়ে থেকে সাবধান। এরা কখনোই পুরোপুরি বিশ্বস্ত হয়ে ওঠে না

২. মাথার চুল নিয়ে নাড়াচাড়া করতে শুরু করে কথা বলার সময়। পুরুষকে বাধ্য করে তার রূপের দিকে নজর দিতে। ইচ্ছে করে ই’ঙ্গিতবাহী পোশাক পরে আসে তার সামনে। যাতে সহজেই আকৃষ্ট করতে পারে।

৩. কিছু নারী পুরুষের স’ঙ্গে বন্ধুত্ব করে প্রথমে। তারপর তার বাড়ির ব্যাপারে খোঁজ নিতে থাকে। যেহেতু এই নারীকে পুরুষ সহজেই বিশ্বা’স করে নেয়, নিজের সম্পর্কে সবই তাকে বলে ফেলে। এমন নারী কিন্তু পুরুষকে ফাঁ’দে ফেলতে ওস্তাদ। নানাভাবে বিশ্বা’স অর্জন করে, ব্ল্যা’কমেইল করতেও পিছপা হয় না। এসব অসৎ নারী থেকে দূরে থাকতে হবে।

৪. নানা ছুতোয় কথা বলার সুযোগ খোঁজে এই নারী। এড়িয়ে গেলে বাড়ি চলে আসে। যেহেতু ততদিনে বাড়ির লোকের স’ঙ্গেও সদ্ভাব করে নেয়, তাই বাড়ির লোকের নজরেও সে বিশ্বা’সযোগ্য।

৫. বারংবার দেখা করার ফাঁ’ক খোঁজে। সেই দেখা হওয়া কিন্তু একান্তে। অন্য কাউকে ডাকে না তখন। ৬. মাঝরাতে মেসেজ করে। রাত ১টা, ২টোর সময় মাখোমাখো মেসেজ পাঠাতে থাকে।

৭. যেসব নারী ম’দ্যপানে আসক্ত তাদের থেকে দূরে থাকুন। কারণ, নে’শা এদেরকে সততাকে বিনষ্ট করে। সাথে চরিত্র ও কুমা’রিত্বও হারায়।

৮. অসৎ নারী নানা অছিলায় যৌ’নতাকে নিয়ে আসে আলোচনার মধ্যে। পুরুষকে যৌ’নভাবে উত্তেজিত করার চেষ্টা করে। সেই উত্তেজনার বশে পুরুষ যদি মাত্রাতিরিক্ত কিছু করেও ফেলে, বিপদ কিন্তু পুরুষেরই। এই নারী কিন্তু অবলীলায় দোষ চাপিয়ে দিতে পারে পুরুষের ঘাড়ে।

Nisa ga re ga gan gara ga || নি সা গা রে গা গান গারে || Ni sa ga re ga; নিসা গারে গা; kids son

 ছড়া গান


কথা ও সুর : এটিএম মোস্তফা

তাল : দ্রুত দাদরা



নিসা, গারে, গা, গান গারে গা

ধাপা, ধানি র্সা, ময়না পাখির ছা

গান গারে গা, গান গারে গা।।



সোনার খাচা গড়ে, রাখব আমি তোরে

মনের মত করে, গয়না দেব ভরে

সোনামনি ময়না আমার একটুখানি গা।।



একটুখানি আশা, দেব ভালবাসা

করব আদর তোরে, থাকবি জনম ভরে

গারে-গা ময়না আমার একটুখানি গা।।



-০-



স্বরলিপি সংগ্রহ করুন : সোপান,মিরাবাজার, সিলেট,



দেবাশীষ



ছড়াগানটি বাচ্চাদের উপযোগী, সেজন্য প্রকাশ করা হল। ভুল হলে কমেন্ট করুন।


আমার হাতে কালি মুখে কালি, কাজী নজরুল ইসলাম, Amar Hate kali Mukhe kali | Nazrul Song

 আমার হাতে কালি মুখে কালি

আমার হাতে কালি মুখে কালি | কাজী নজরুল ইসলাম | Amar Hate kali Mukhe kali | Nazrul শ্যামা সংগীত



আমার হাতে কালি মুখে কালি,
মা আমার কালিমাখা মুখ দেখে মা পাড়ার লোকে হাসে খালি।।
মোরলেখাপড়া হ’ল না মা,
আমি ‘ম’ দেখিতেই দেখি শ্যামা,
আমি ‘ক’ দেখতেই কালী ব’লে নাচি দিয়ে করতালি।।
কালো আঁক দেখে মা ধারাপাতের ধারা নামে আঁখি পাতে,
আমারবর্ণ পরিচয় হ’লো না মা তোর বর্ণ বিনা কালী।
যা লিখিস মা বনের পাতায় সাগর জলে আকাশ খাতায়,
আমি সে লেখা তো পড়তে পারি মূর্খ বলে দিক্‌ না গালি মা,
লোকে মূর্খ ব’লে দিক্‌ না গালি।।


আমার হাতে কালি মুখে কালি, স্বরলিপি কাজী নজরুল ইসলাম কবিতা সমগ্র কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা আবৃত্তি বাংলাদেশ, কবিতা কাজী নজরুল ইসলাম নজরুলের বাংলাদেশ কবিতা কবিতা আবৃত্তি, কাজী নজরুল ইসলাম দুরন্ত কবিতা, আনন্দময়ীর আগমনে কবিতার মূলভাব,আমার হাতে কালি মুখে কালি,amar hate kali mukhe kali,আমার হাতে,amar hate,কালি মুখে কালি,kali mukhe kali,shreya,nazrul song,channel i,bangla gaan,better song,music song,music video,popular song,music gaan,nazrul sangeet,video song,nazrul geeti,video gaan,nazruler gaan,desi song,bangla song,old song,bangla music,চ্যানেল আই,নজরুল সঙ্গীত,নজরুল গীতি,পুরাতন গান,জনপ্রিয় গান,ভিডিও গান,দেশীয় গান,মিউজিক গান,বাংলা গান,বাংলা বেস্ট গান,শ্রেয়া


Wednesday, July 21, 2021

আমলকি খেলে ২০ উপকার এবং যে কারনে আমলকি খাবেন

 

আমলকি খেলে ২০ উপকার এবং যে কারনে আমলকি খাবেন
আমলকি

আমলকি টক আর তেতো স্বাদের ভিটামিন সি সমৃদ্ধ একটি ফল। আমরা কম বেশি অনেকেই আমলকি পছন্দ করি। এর স্বাদ প্রথমে কষটে লাগলেও খাওয়া শেষে মুখে মিষ্টি ভাব আসে। আমলকি খেলে মুখে রুচি বাড়ে। স্কার্ভি বা দন্তরোগ সারাতে টাটকা আমলকির জুড়ি নেই। এছাড়া লিভার, জন্ডিস, পেটের পীড়া, সর্দি, কাশি ও রক্তহীনতার জন্যও খুবই উপকারী।

Tuesday, July 20, 2021

থানকুনি পাতার ১০টি জাদুকরী উপকারিতা এবং যে কারনে খাবেন

 

থানকুনি পাতার ১০টি জাদুকরী উপকারিতা  এবং যে কারনে খাবেন
থানকুনি পাতা

থানকুনি পাতা। আমাদের দেশের খুব পরিচিত একটি ভেষজ গুণসম্পন্ন উদ্ভিদ। এর ল্যাটিন নাম centella aciatica। গ্রামাঞ্চলে থানকুনি পাতার ব্যবহার আদি আমল থেকেই চলে আসছে। ছোট্ট প্রায় গোলাকৃতি পাতার মধ্যে রয়েছে ওষুধি সব গুণ। থানকুনি পাতার রস রোগ নিরাময়ে অতুলনীয়।প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে বহু রোগের উপশম হয় এর ভেষজ গুণ থেকে। খাদ্য উপায়ে এর সরাসরি গ্রহণ রোগ নিরাময়ে থানকুনি যথার্থ ভূমিকা রাখতে সক্ষম। অঞ্চলভেদে থানকুনি পাতাকে আদামনি, তিতুরা, টেয়া, মানকি, থানকুনি, আদাগুনগুনি, ঢোলামানি, থুলকুড়ি, মানামানি, ধূলাবেগুন, নামে ডাকা হয়। তবে বর্তমানে থানকুনি বললে সবাই চেনে।

জেনে নিন বেল পাতার কি কি উপকারিতা-

জেনে নিন বেল পাতার কি কি উপকারিতা-
বেল পাতা


 গোলগাল একটি ফল। কাঁচা থাকতে সবুজ আর পাকলেই হলদে। শক্ত খোসার এই ফলটি শারীরিক বিভিন্ন রোগের দাওয়াই হিসেবে বিবেচিত। বলছি বেলের কথা।

বেলে প্রচুর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে বিভিন্ন পুষ্টিগুণ। তবে জানেন কি? বেল ফলের মতো এর পাতা ও খুব উপকারী। চলুন তবে জেনে নেয়া যাক বেল পাতার উপকারিতা সম্পর্কে-

বেল শরীরের জন্য উপকারি, এবং কি কি সমস্যার জন্য বেল খাবেন

বেল শরীরের জন্য  উপকারি, এবং কি কি সমস্যার জন্য বেল খাবেন
বেল 

শীতের শেষ ও গরমের শুরু এই সময় আবহাওয়ার পরিবর্তন খুব তাড়াতাড়ি প্রভাব ফেলে শরীরে। তার জেরে ছোট থেকে বড় প্রায় সকলেই নাজেহাল হন। এই সময়টায় খেতে পারেন বেল। এর রয়েছে হাজারও উপকারিতা। সেই প্রাচীন সময় থেকেই কিন্তু আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে পাকাপক্ত জায়গা করে নিয়েছিল বেল। তাই বেল খেলে সুস্থ থাকতে পারবেন।

তরমুজের খেলে যত উপকার হয় এবং তরমুজের পুষ্টি গুন

 

তরমুজের খেলে যত উপকার হয় এবং তরমুজের পুষ্টি গুন
তরমুজ
গ্রীষ্মকালীন ফল তরমুজ। চৈত্রের খর তাপে তৃষ্ণা মেটাতে তরমুজের জুড়ি মেলা ভার। সবুজ মোটা খোসাযুক্ত গোল বৃত্তে আবৃত লাল রসালো ফল এ তরমুজ।

প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন যেমন আছে এ ফলে তেমনি আছে মিনারেল, অ্যামাইনো অ্যাসিড, অ্যান্টিঅক্সিজেনের মতো নানা উপাদান। এ ছাড়া তরমুজ শরীরে পানির অপূর্ণতা পূরণেও বেশ সহায়ক। তাই গরমে ঘামের পরিমাণ বেড়ে গেলে আর পানির সংকট হলে আপনাকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করতে পারে তরমুজ।

সকালবেলা খালিপেটে আনারস খেলে কী হয়

সকালবেলা খালিপেটে আনারস খেলে কী হয়
আনারস


খালি পেটে আনারস খেলে যাদের গ্যাষ্টিক আছে তাদের গ্যাষ্টিক আরও বেড়ে যেতে পারে কৃমি হলে খালি পেটে আনারস উপকারী
খালি পেটে সকালবেলা আনারস পানি খেলে শরীরের উপকার হয় আনারসে আছে এনজাইম ব্রমেলেইন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ভিটামিন সি দুটো উপাদানই রোগ নিরাময়ে বেশ কার্যকর
অন্য রোগ থাকলে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে আনারস খাবেন

আনারসের ১০ টি স্বাস্থ্য উপকারিতা এবং আনারসের যে যে পুষ্টির উপাদান থাকে

 

আনারসের ১০ টি স্বাস্থ্য উপকারিতা এবং আনারসের যে যে পুষ্টির উপাদান থাকে
আনারস

আনারস রসালো ও তৃপ্তিকর সুস্বাদু ফল। ফলটিতে আঁশ ও ক্যালোরি ছাড়াও প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস এবং পটাশিয়াম থাকে। কলস্টেরল ও চর্বিমুক্ত বলে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এর জুড়ি নেই। আসুন জেনে নিই আনারসের বিভিন্ন উপকারিতা সম্পর্কে।

Saturday, July 17, 2021

পেঁপে পাতার রস খেলে ৯ টি উপকার মিলবে

পেঁপে পাতার রস খেলে ৯ টি  উপকার মিলবে
পেঁপে পাতার রস


একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, পেঁপের ভেতরে উপস্থিত একাধিক উপকারি উপাদান পেটের রোগের প্রকোপ কমানোর পাশাপাশি ওজন কমাতে, ত্বককে সুন্দর করে তুলতে এবং হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। সেই সঙ্গে সংক্রমণের প্রকোপ কমাতে, ক্যান্সারের মতো মারণ রোগকে দূরে রাখতে এবং রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার উন্নতি ঘটাতেও পেঁপের কোনও বিকল্প আছে বলে তো মনে হয় না। তবে আজকের এই প্রবন্ধ পেঁপেকে নিয়ে নয়। বরং পেঁপে পাতা কীভাবে আমাদের শরীরের উপকারে লাগতে পারে সেই বিষয়টির উপর আলোকপাত করার চেষ্টা করা হবে। বেশ কিছু স্টাডিতে দেখা গেছে, পেঁপে পাতার ভেতরে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় ভিটামিন এবং মিনারেল। সেই সঙ্গে রয়েছে উপকারি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, এনজাইম এবং ফাইটো নিউট্রিয়েন্টস, যা নানাভাবে শরীরের উপকারে লেগে থাকে। যেমন ধরুন-

কাঁচা পেঁপে খেলে কি কি উপকার হয়

কাচা পেপে খেলে কি কি উপকার হয়
কাঁচা পেঁপে

পেঁপে বেশ সুস্বাদু একটি ফল। পাকলে এটি বেশ রসালো ও মিষ্টি হয়। এই পেঁপে কাঁচা থাকতেও খাওয়া যায়। সালাদ করে, তেঁতুল-মরিচ দিয়ে মাখিয়ে কিংবা সবজি হিসেবে রান্না করে খাওয়া হয় কাঁচা পেঁপে। কাঁচা পেঁপেতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন। বিভিন্ন রকম অসুখ সারাতে কাঁচা পেঁপে খুবই উপকারি। অন্যান্য ফলের তুলনায় পেঁপেতে ক্যারোটিন অনেক বেশি থাকে। কিন্তু ক্যালরির পরিমাণ অনেক কম থাকায় যারা মেদ সমস্যায় ভুগছেন তারা অনায়াসে খেতে পারেন এ ফলটি। জেনে নিন কাঁচা পেঁপের কিছু উপকারিতা-

খালি পেটে পাকা পেঁপে খেলে উপকার বেশি

খালি পেটে পাকা পেঁপে খেলে উপকার বেশি
পেঁপে


সারা বিশ্বেই জনপ্রিয় ফলগুলোর মধ্যে একটি হল পেঁপে। পুষ্টিগুণের জন্যই সবাই এই ফলটি বেশি পছন্দ করেন। তবে এর উৎসেচক যাতে সঠিকভাবে কাজ করে সেই কারণেই খালি পেটে পাকা পেঁপে খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। বিকেলের পর কিন্তু পেঁপে খাবেন না।

Friday, July 16, 2021

সনাতন বা হিন্দু ধর্ম গ্রন্থের নাম

সনাতন বা হিন্দু ধর্ম গ্রন্থের নাম



 প্রত্যেক ধর্মেরই নিজস্ব ধর্মগ্রন্থ আছে, ধর্মগ্রন্থের অপর নাম শাস্ত্র। অন্য ধর্মের তুলনায় হিন্দু শাস্ত্রের সংখ্যা অগণিত। তার কারণ হল হিন্দুধর্ম অত্যন্ত প্রাচীন। তাই একে সনাতন ধর্ম বলা হয়। ঈশ্বরের স্বরূপ, জীবের সঙ্গে ঈশ্বরের সম্পর্ক, ঈশ্বর প্রাপ্তির উপায় প্রভৃতি বিভিন্ন বিষয় শাস্ত্র থেকেই জানা যায়। হিন্দু শাস্ত্রের সংখ্যা অনেক হওয়াতে বিভিন্ন সত্যদ্রষ্টা ঋষি ঈশ্বরপ্রাপ্তির বিভিন্ন উপায়ের কথা বলেছেন। প্রত্যেক ধর্মে একাধিক ধর্মগ্রন্থ বা শাস্ত্র থাকলেও তার মধ্যে একখানা সিদ্ধশাস্ত্র থাকে। হিন্দুধর্মের সিদ্ধশাস্ত্র হল বেদ।

Wednesday, July 7, 2021

শ্রীশ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারী বাবার ধ্যান মন্ত্রঃ-

শ্রীশ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারী

তিনি লোকনাথ বাবা নামেও পরিচিত। বাবা লোকনাথ শ্রীকৃষ্ণের জন্মদিন জন্মাষ্টমীতে ১৭৩০ খ্রিষ্টাব্দের ৩১ আগস্ট (১৮ ভাদ্র, ১১৩৭ বঙ্গাব্দ) কলকাতা থেকে কিছু দূরে ২৪ পরগণার কচুয়া গ্রামে একটি ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম রামনারায়ণ ঘোষাল এবং মাতা কমলাদেবী। তিনি ছিলেন তার বাবা-মায়ের ৪র্থ পুত্র। 


Monday, June 28, 2021

Mother Teresa Early Life মাদার টেরেসার জীবনী Mother Teresa Biography in Bengali



গরীব-আর্ত ও সর্বহারাদের সেবায় যিনি নিজেকে শেষ দিন পর্যন্ত নিয়োজিত করেছিলেন সেই অ্যাগনিস গঞ্জা বোজাঝিউকে সকলে স্বয়ং ঈশ্বরের দূত মনে করতেন | যাদের সমাজে কোনো স্থান ছিলোনা,তাদের সযত্নে নিজের কোলে আশ্রয় দিয়েছিলেন আলবেনিয়া থেকে ভারতে আসা এই মহিয়সী নারী |

Tuesday, May 25, 2021

সুকান্ত ভট্টাচার্যের জীবনী#SukantaBhattacharya #sukantobanglaBiography Biography of Sukanta Bhattacharya সুকান্ত ভট্টাচার্য -জানা অজানা

 

সুকান্ত ভট্টাচার্যের জীবনী

সুকান্ত ভট্টাচার্য

#SukantaBhattacharya #sukantobanglaBiography

Biography of Sukanta Bhattacharya | #সুকান্তভট্টাচার্য -জানা অজানা


জন্মঃ ১৫ই আগস্ট ১৯২৬ সালে। মাতামহের বাড়ি কলকাতার কালীঘাটের ৪৩,মহিম হালদার স্ট্রীটের বাড়িতে সুকান্ত ভট্টাচার্য জন্মগ্রহণ করেন।

বাংলা সাহিত্যের মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি।

আট-নয় বছর বয়স থেকেই সুকান্ত লিখতে শুরু করেন। স্কুলের হাতে লেখা পত্রিকা ‘সঞ্চয়ে’ একটি ছোট্ট হাসির গল্প লিখে আত্মপ্রকাশ করেন। তার দিনকতক পরে বিজন গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘শিখা’ কাগজে প্রথম ছাপার মুখ দেখে তার লেখা বিবেকান্দের জীবনী। মাত্র এগার বছর বয়সে ‘রাখাল ছেলে’ নামে একটি গীতি নাট্য রচনা করেন। এটি পরে তার ‘হরতাল’ বইতে সংকলিত হয়। বলে রাখা ভালো, পাঠশালাতে পড়বার কালেই ‘ধ্রুব’ নাটিকার নাম ভূমিকাতে অভিনয় করেছিলেন সুকান্ত। সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় বাল্য বন্ধু লেখক অরুণাচল বসুর সঙ্গে মিলে আরেকটি হাতে লেখা কাগজ ‘সপ্তমিকা’ সম্পাদনা করেন। অরুণাচল তার আমৃত্যু বন্ধু ছিলেন। মার্কসবাদী চেতনায় আস্থাশীল কবি হিসেবে সুকান্ত কবিতা লিখে বাংলা সাহিত্যে স্বতন্ত্র স্থান করে নেন। সুকান্তকে বলা হয় গণমানুষের কবি। অসহায়-নিপীড়িত সর্বহারা মানুষের সুখ, দুঃখ তার কবিতার প্রধান বিষয়। অবহেলিত মানুষের অধিকার আদায়ের স্বার্থে ধনী মহাজন অত্যাচারী প্রভুদের বিরুদ্ধে নজরুলের মতো সুকান্তও ছিলেন সক্রিয়। যাবতীয় শোষণ-বঞ্চনার বিপক্ষে সুকান্তের ছিল দৃঢ় অবস্থান। তিনি তার কবিতার নিপুণ কর্মে দূর করতে চেয়েছেন শ্রেণী বৈষম্য। মানবতার জয়ের জন্য তিনি লড়াকু ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। অসুস্থতা অর্থাভাব তাকে কখনো দমিয়ে দেয়নি। মানুষের কল্যাণের জন্য সুকান্ত নিরন্তর নিবেদিত থেকেছেন। তিনি মানবিক চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে বিদ্রোহের ডাক দিয়েছেন। তার অগ্নিদীপ্ত সৃষ্টি প্রণোদনা দিয়ে সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করতে প্রয়াসী ছিলেন।


মানবিক চেতনায় উদ্বুদ্ধ কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য বাংলা কাব্যধারার প্রচলিত প্রেক্ষাপটকে আমূল বদলে দিতে পেরেছিলেন। সুকান্ত কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা দৈনিক স্বাধীনতার (১৯৪৫) ‘কিশোর সভা’ বিভাগ সম্পাদনা করতেন। মার্কসবাদী চেতনায় আস্থাশীল কবি হিসেবে সুকান্ত কবিতা লিখে বাংলা সাহিত্যে স্বতন্ত্র স্থান করে নেন।তার কবিতায় অনাচার ও বৈষ্যমের বিরুদ্ধে প্রবল প্রতিবাদ পাঠকদের সংকচিত করে তোলে। গণমানুষের প্রতি গভীর মমতায় প্রকাশ ঘটেছে তার কবিতায়। তার রচনাবলির মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো: ছাড়পত্র (১৯৪৭), পূর্বাভাস (১৯৫০), মিঠেকড়া (১৯৫১), অভিযান (১৯৫৩), ঘুম নেই (১৯৫৪), হরতাল (১৯৬২), গীতিগুচ্ছ (১৯৬৫) প্রভৃতি। পরবর্তীকালে উভয় বাংলা থেকে সুকান্ত সমগ্র নামে তার রচনাবলি প্রকাশিত হয়। সুকান্ত ফ্যাসিবাদবিরোধী লেখক ও শিল্পিসঙ্ঘের পক্ষে আকাল (১৯৪৪) নামে একটি কাব্যগ্রন্থ সম্পাদনা করেন।সুকান্তের কবিতা বিষয়বৈচিত্র্যে ও লৈখিক দক্ষতায় অনন্য। সাধারণ বস্তুকেও সুকান্ত কবিতার বিষয় করেছেন। বাড়ির রেলিং ভাঙা সিঁড়ি উঠে এসেছে তার কবিতায়। সুকান্তের কবিতা সব ধরনের বাধা-বিপত্তিকে জয় করতে শেখায়। যাপিত জীবনের দুঃখ-যন্ত্রণাকে মোকাবেলা করার সাহস সুকান্তের কবিতা থেকে পাওয়া যায়। তারুণ্যের শক্তি দিয়ে উন্নত শিরে মানুষের মর্যাদার জন্য মানুষকে প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান সুকান্তের কবিতায় লক্ষণীয়। সুকান্তের কবিতা সাহসী করে, উদ্দীপ্ত করে। তার বক্তব্যপ্রধান সাম্যবাদী রচনা মানুষকে জীবনের সন্ধান বলে দেয়। স্বল্প সময়ের জীবনে তিনি বাংলা সাহিত্যকে অনেক কিছু দিয়ে গেছেন। রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, দিজেন্দ্রলাল রায়, জীবনানন্দ দাশসহ সে সময়ের বড় বড় কবির ভিড়ে তিনি হারিয়ে যাননি। নিজের যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখে গেছেন নিজ প্রতিভা, মেধা ও মননে। সুকান্ত তার বয়সিক সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করেছেন তার পরিণত ভাবনায়। ভাবনাগত দিকে সুকান্ত তার বয়স থেকে অনেক বেশি এগিয়ে ছিলেন।

উল্লেখযোগ্য সৃষ্টিঃ ছাড়পত্র, ঘুম নেই, পূর্বাবাস তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ।

মৃত্যুঃ ১৩ মে ১৯৪৭| তিনি একাধারে বিপ্লবী ও স্বাধীনতার আপোসহীন সংগ্রামী কবি সুকান্ত ছিলেন কমুনিষ্ট পার্টির সারাক্ষণের কর্মী। পার্টি ও সংগঠনের কাজে অত্যধিক পরিশ্রমের ফলে নিজের শরীরের উপর যে অত্যাচারটুকু তিনি করলেন তাতে তার শরীরে প্রথম ম্যালেরিয়া ও পরে দুরারোগ্য ক্ষয়রোগে আক্রান্ত হয়ে ১৯৪৭ সালের ১৩ই মে মাত্র ২১ বছর বয়সে কলিকাতার ১১৯ লাউডট স্ট্রিটের রেড এড কিওর হোমে মৃত্যুবরণ করেন। সুকান্ত ভট্টাচার্যের জীবন মাত্র ২১ বছরের আর লেখালেখি করেন মাত্র ৬/৭ বছর। সামান্য এই সময়ে নিজেকে মানুষের কবি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে গেছেন। তার রচনা পরিসরের দিক থেকে স্বল্প অথচ তা ব্যাপ্তির দিক থেকে সুদূরপ্রসারী।


সুকান্ত ভট্টাচার্য প্রশ্ন,সুকান্ত ভট্টাচার্য এর মৃত্যু,সুকান্ত ভট্টাচার্য কবিতা pdf,সুকান্ত ভট্টাচার্য কবিতা সমগ্র
সুকান্ত ভট্টাচার্য প্রশ্ন উত্তর,সুকান্ত ভট্টাচার্য বাণী,সুকান্ত ভট্টাচার্য ছবি,সুকান্ত ভট্টাচার্য প্রেমের কবিতা

কিশোর কবি সুকান্ত ও তাঁর কবিতায় আকালের চিত্র
রচনা:- কিশোর মজুমদার
Sukanta Bhattacharya, কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য, বাংলা কাব্যসাহিত্যে সুকান্ত ভট্টাচার্যের অবদান , কবি সুকান্ত, ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময় … , সুকান্ত ভট্টাচার্যের বিখ্যাত উক্তি, এগুলি সম্পর্কিত বিস্তারিত বিষয় এই রচনায় গ্রন্থিবদ্ধ করা হয়েছে ।


কবি সুকান্ত ও তাঁর কবিতায় আকাল
বাংলা কাব্য সাহিত্যের জগতে সুকান্ত ভট্টাচার্য (১৯২৬-১৯৪৬) এক অতি পরিচিত এবং জনপ্রিয় নাম । সবার প্রিয় এই ‘কিশাের কবি’ শােষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার আদর্শে উদ্বুদ্ধ সংগ্রামী মানুষের প্রেরণা ছিলেন । তাঁর প্রতিভার চমক আর কবিতার বিপুল আবেদন জীবৎকালেই তাকে বেশ জনপ্রিয় করেছিল । স্বাধীনতার স্বপ্নে বিভাের এই কবি দেশ স্বাধীন হবার মাত্র তিন মাস আগে ১৯৪৭ সালের ১২ই মে পার্থিব মায়া ত্যাগ করে চলে যান বড় অসময়ে। সুকান্তর এই মৃত্যুটাই যেন বাঙালির কাছে একটা বেদনাবিধুর কবিতা।
সুকান্তর শৈশব ও কৈশাের কেটেছিল দেশের উত্তাল আবহাওয়া ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহ ব্যাপ্তির মধ্যে। যেখানে ছিল মন্বন্তর, ফ্যাসিস্ট-বিরােধী আন্দোলন, স্বাধীনতা সংগ্রাম, শ্রমিক ধর্মঘট আর ভ্রাতৃঘাতী সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা। ১৯৪০ থেকে ১৯৪৭ এইভয়াবহ উত্তাল সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেই সুকান্তর কাব্যচর্চা। ফলে তাঁর রচনায় আমরা খুঁজে পাই সমকালীন সামাজিক, রাজনৈতিক পরিবেশ পরিস্থিতির কাব্যরূপায়ণ। আর এখানেই তিনি সমযুগে স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখেছেন। রবীন্দ্রনাথ শেষ বয়সে এমন একজন কবিকে আহ্বান করে গিয়েছিলেন, যিনি গাইবেন মাটির কাছের নিপীড়িত মানুষের জাগরণের গান, মাটির মর্মবাণী যিনি শােনাবেন বাংলা কাব্যের আকাশে বাতাসে। সে গান রবীন্দ্রনাথ গাইতে পারেন নি; তবে প্রত্যাশা করেছিলেন একজন গাইবেন। বলাকা’র পরে নবজাতক-এ তিনি আন্তরিক আহ্বান জানালেন নবীন আগন্তুককে –

 

“নবীন আগন্তুক
নবযুগ তব যাত্রার পথে
চেয়ে আছে উৎসুক।”
-কবির এই আহ্বানে সাড়া দিতেই যেন সুকান্ত এক নবজাতকের ছাড়পত্র নিয়ে আবির্ভূত হয়েছেন
“এসেছে নতুন শিশু , তাকে ছেড়ে দিতে হবে স্থান;
জীর্ণ পৃথিবীতে ব্যর্থ, মৃত আর ধংসস্তুপ – পিঠে
চলে যেতে হবে আমাদের।” (ছাড়পত্র /নাম কবিতা)
শােষিত নিপীড়িত, বঞ্চিত ক্ষুধাতুর মানুষের মধ্যে সংগ্রামী চেতনা উজ্জীবিত করে এক বিপ্লবের স্পন্দন জাগিয়ে তোলাই ছিল সুকান্তর ‘দৃঢ় অঙ্গীকার’।

 
কোনাে ভাব কল্পনা বা আদর্শ আকাশ থেকে পড়ে না, জীবনের মধ্যেই তার সৃষ্টি – আর সেই জীবন সমাজবদ্ধ। তাই বলা যায় কোনাে ভাব বা আদর্শের মধ্যেই নিহিত আছে সৃষ্টিকালের সমাজ চেতনা। সামাজিক ইতিহাসের মধ্যেই সে যুগের সমাজ-চেতনার সন্ধান করতে হয়। কোনাে ঐতিহাসিক যুগের আর্থ সামাজিক কাঠামাে সেই যুগের রাজনৈতিকও মানসিক ইতিহাসের ভিত্তিভূমি। এক সময় ভূমির ওপর ছিল মানুষের যৌথ মালিকানা আর যেদিন থেকে যৌথ মালিকানা অবলুপ্ত হতে থাকে তখন থেকেই শুরু হয় শ্রেণি সংগ্রামের ইতিহাস। সমাজ বিকাশের বিভিন্ন স্তরে শুরু হয় অবদমিত ও প্রভূত্বকারী শ্রেণির তথা শােষক-শােষিতের সংগ্রামের ইতিহাস।
ভারত তথা বাংলাদেশে যখন বিদেশী শাসনশােষণ-অপশাসনে পীড়িত সাধারণ মানুষ, তখন সমাজের ভেতরের অবস্থাও ছিল সঙ্কটময়।


জমিদার, ধনীক শ্রেণি , বণিক শ্রেণি ও মহাজনদের হাতে নিষ্পেষিত হতে থাকে ক্রমশ শ্রমিক শ্রেণিতে পরিণত হতে থাকা কৃষক ও দরিদ্র মানুষ। এর সঙ্গে ঘৃতাহুতি দেয় বিভিন্ন সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা। এই অপশাসনের নিষ্ঠুর চিত্র দেখেই নজরুল গাইলেন সাম্যের গান। তাঁর কবিতায় তুলে ধরলেন কীভাবে বাবু শ্রেণির হাতে নির্যাতিত হয় নিম্নবিত্তের মানুষ:-

“দেখিনু সেদিন রেলে কুলি ব’লে এক বাবুসাব তারে ঠেলে দিল নীচে ফেলে/চোখ ফেটে এল জল— এমনি করে কি জগৎ জুড়িয়া মার খাবে দুর্বল ! ”

আরও পড়ুনঃবাংলা কাব্যে কাজী নজরুল ইসলামের অবদান


ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের নির্মম শােষণের এক শোচনীয় পরিণাম ঘন ঘন দুর্ভিক্ষ। ছিয়াত্তরের মন্তরের মর্মন্তুদ চিত্র বঙ্কিমের ‘আনন্দমঠ’-এ চিত্রিত হয়েছে। কিন্তু তার চেয়েও ভয়াবহ ছিল তেরশাে পঞ্চাশের মন্বন্তর। যার পেছনে প্রত্যক্ষ ও পরােক্ষ কারণ ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। – পঞ্চাশের মন্বন্তরের জীবন্ত আলেখ্য ফুটে উঠেছে বিভিন্ন লেখকের রচনায়। ম্যান-মেড বা কৃত্রিমভাবে সৃষ্ট এই দুর্ভিক্ষে ‘ মারী আর মড়কের দুঃসহ আঘাতে বারবার বিপন্ন ‘ হয়ে যাওয়া কৃষিজীবী ও গ্রামের দরিদ্র মানুষ শহরমুখী হয়।
সুকান্তর অগ্রজ কবি সুভাষ মুখােপাধ্যায় লিখেছেন – ‘গ্রাম উঠে গিয়েছে শহরে’ (স্বাগত)।

 

কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য তাঁর সম্পাদিত ‘ আকাল’ (১৩৫১) কাব্যগ্রন্থের ‘কথামুখ’-এ লিখেছেন,

“তেরােশাে পঞ্চাশ সম্বন্ধে কোনাে বাঙালিকে কিছু বলতে যাওয়া অপচেষ্টা ছাড়া আর কী হতে পারে ? কেননা তেরশাে পঞ্চাশ কেবল ইতিহাসের একটা সাল নয়, নিজেই একটা স্বতন্ত্র ইতিহাস। সে ইতিহাস একটা দেশ শ্মশান হয়ে যাওয়ার ইতিহাস,ঘরভাঙা গ্রামছাড়ার ইতিহাস, দোরে দোরে কান্না আর পথে পথেমৃত্যুর ইতিহাস,আমাদের
অক্ষমতার ইতিহাস।”


— এই কথা ক’টিই প্রমাণ করে কিশাের কবিকে কীভাবে নাড়া দিয়েছিল এই মন্বন্তর বা আকাল ‘ এর প্রত্যেকটি কবিতাই ছিল কালবেলার বুভুক্ষু মানুষের যন্ত্রণার আর্তনাদ ও মস্থরের পরিণতি বিষয়ক কবিতা। সেই ভয়াবহ বাতাবরণে দাঁড়িয়ে কবি সুকান্ত নিজেকে তাই | ‘দুর্ভিক্ষের কবি’ বলে উল্লেখ করেছেন সঙ্গত কারণেই। দুর্ভিক্ষের বেদনা বিধুর কবিতাই কেবল তিনি রচনা করেন নি তুলে ধরেছেন খাদ্যের। সারিতে দাঁড়ানাে মানুষটির অসহায়তাকেও – “আমার বসন্ত কাটে খাদ্যের সারিতে প্রতীক্ষায়, / আমার বিনিদ্র রাতে সতর্ক সাইরেন ডেকে যায়।” (রবীন্দ্রনাথের প্রতি’/ ছাড়পত্র)
মন্বন্তরের মৃত্যু শবাকীর্ণ দিনগুলিতে একদিকে বিপন্ন সাধারণ মানুষ, অপরদিকে মুনাফালােভী কালােবাজারির ক্রমবর্ধমান শোষণের সঙ্গে তাল রেখে বাড়ছিল অসহায় হতাশ মানুষের আত্মসমর্পণ। ঘুরে দাঁড়ানাের স্বপ্ন নিয়েই কিশাের কবি প্রতিবাদে সােচ্চার হয়েছিলেন। তুলে নেন তার ধারালাে কলম; একের পর এক বিদ্রোহ, বিপ্লব আর প্রতিবাদের এলােপাথাড়ি আঁচড় দিতে থাকেন ঘুন-ধরা সমাজের গায়ে। ‘কলম’ও শেষ পর্যন্ত হয়ে ওঠে শোষিত মানুষ –

“কলম! বিদ্রোহ আজ দলবেঁধে ধর্মঘট করাে।
লেখক স্তম্ভিত হােক, কেরানিরা ছেড়ে দিক হাঁফ,
মহাজনী বন্ধ হােক, বন্ধ হােক মজুরের তাপ
উদ্বেগ আকুল হােক প্রিয়া যত দূর দেশে দেশে,
কলম ! বিদ্রোহ আজ, ধর্মঘট হােক অবশেষে;
আর কালাে কালি নয়, রক্তে আজ ইতিহাস লিখে
দেয়ালে দেয়ালে এঁটে হে কলম — আনাে দিকে দিকে।”
(কলম – ‘ছাড়পত্র)

আরও পড়ুনঃ বাংলা কাব্যে বিষ্ণু দে-র অবদান

আধুনিক বাংলা কবিতায় কবি জীবনানন্দ দাশের অবদান


শোষক শ্রেণির প্রতি তীব্র ঘৃণা প্রতিফলিত হয়েছে তার ব্ল্যাক মার্কেট ছড়াটিতে –
“হাত করে মহাজন; হাত করে জোতদার,
ব্ল্যাকমার্কেট করে ধনীরাম পােদ্দার
গরীব চাষীকে মেরে হাতখানা পাকালাে
বালিগঞ্জেতে বাড়ি খান ছয় হাঁকলাে ।
কেউ নেই ত্রিভুবনে, নেই কিছু অভাব-ও
তবু ছাড়লাে না তার লােকমারা স্বভাব-ও।”
(ব্ল্যাকমার্কেট – ‘মিঠেকড়া’)

কাব্যরচনার গােড়াতেই সুকান্ত বুঝেছিলেন এই সময় কাব্যরচনা অলস বিনােদনের জন্য নয়। ক্ষুধার রাজ্য শুরু হয়ে গেছে। কাজেই রােমান্টিক ভাবালুতা আর চাঁদ-তারা-পাখি-গান-ফুল তাঁর কবিতা থেকে বিদায় নিয়েছে। রােমান্সের থালাভরা চাঁদ তার কাছে হয়ে ওঠে ঝলসানাে রুটি –

“হে মহাজীবন, আর এ কাব্য নয়/এবার কঠিন, কঠোর গদ্যে আনো,/পদ-লালিত্য ঝঙ্কার মুছে যাক / গদ্যের কড়া হাতুড়িকে আজ হানো!/ প্রয়োজন নেই কবিতার স্নিগ্ধতা—/কবিতা তোমায় দিলাম আজকে ছুটি,/ ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়:/ পূর্ণিমা-চাঁদ যেন ঝল্সানো রুটি।।(‘হে মহাজীবন’ /ছাড়পত্র)

আরও পড়ুনঃবিহারীলাল চক্রবর্তীকে কে , কেন ‘গীতিকবিতার ভোরের পাখি ‘ বলেছেন?

বিশ্ব ইতিহাসে বেশ কিছু পরিবর্তন আরম্ভ হয়েছিল বিংশ শতকের দ্বিতীয় দশক থেকেই। ১৯১৭ খ্রীঃ রাশিয়ার সমাজতান্ত্রিক সােভিয়েত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। ১৯১৯ এর রাওলাট আইনে যখন বৃটিশ সাম্রাজ্যবাদী শক্তির নগ্নরূপ প্রকাশ পায়, তখন বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদী এবং সন্ত্রাসবাদী আন্দোলনের সমান্তরাল সাম্যবাদী ভাবধারা প্রবেশ করে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধোত্তর পরিস্থিতিতে সমগ্র ইউরােপে যখন উত্তাল অবস্থা, ভারতের অবস্থাও তখন সংকটাপন্ন। ত্রিশের দশকে তখন শুরু হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের রণহুঙ্কার। জাপান আক্রমণ করল চিনকে, জার্মান আক্রমণ করল পােল্যান্ডকে
তখন মানবতার চরম অপমানে রবীন্দ্রনাথ ‘প্রায়শ্চিত্ত’, ‘বুদ্ধভক্তি’ প্রভৃতি কবিতায় প্রতিবাদ ব্যক্ত করেছিলেন। পৃথিবীব্যাপী শােষণের বিশেষ রূপই যে ভারতের ঔপনিবেশিক শাসন – সে সত্য অতি অল্প বয়সেই সুকান্তর কবি চেতনায় অপমানের জ্বালা রূপে প্রকাশ পেয়েছে –
“এ দেশে জন্মে পদাঘাত-ই শুধু পেলাম,
অবাক পৃথিবী সেলাম – তােমাকে সেলাম।” (অনুভব – ১৯৪০ ছাড়পত্র)
সেদিনের এই তরতাজা কিশােরের রক্তে ধ্বনিত হওয়া মার্কস, লেনিন, গাের্কি প্রমুখর সমাজতান্ত্রিক ও সাম্যবাদী ভাবনা অন্ততঃ যুগের প্রেরণার ফসল একথা ঠিক। সুকান্তও তাই সর্বহারার অবস্থানে দাঁড়িয়ে সাম্যবাদী ভাবধারায় উদ্বুদ্ধ হয়েছিলেন সে সময়। সমাজতান্ত্রিক সর্বহারার বিশ্বচেতনাই তাকে বাস্তববাদে উজ্জীবিত করেছে। সুকান্ত বিশ্বাস করতেন ব্যক্তিস্বাতন্ত্রকে ছাপিয়ে শােষিত মানুষের জয়লাভ-ই সর্বমানবের বাঁচার উপায়। আজকের কবিতা শ্রেণি সংগ্রামকেই উদ্বুদ্ধ করবে এটা স্বাভাবিক। কেননা শ্রেণি-শােষণে পঙ্গু সমাজের পরিবর্তন সাধিত হতে পারে একমাত্র তাদেরই সংগ্রামে। সুকান্তও তা-ই তাঁর কবিতাকে করে তুললেন সহজ সরল। সমালােচক অশােক ভট্টাচার্য সুকান্তকে তাই ‘সমাজতান্ত্রিক বাস্তববাদী’ কবি হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। (‘সুকান্ত প্রসঙ্গ’ – পৃষ্ঠা ৭৮)

 

সমালােচকের মতে, একজন সমাজতান্ত্রিক বাস্তববাদী কবির মতােই সুকান্তও জনগনের থেকে এক ধাপ এগিয়ে ছিলেন। জনগনকে তাই তিনি তাড়না না করে আহ্বান করেছেন –
“কতক্ষণ ভুলে থাকবে পেটের ক্ষুধা আর গলার। শিকলকে ? /কতক্ষণ নাড়তে থাকবে লেজ? /তার চেয়ে পােষমানাকে অস্বীকার করাে, অস্বীকার করাে বশ্যতাকে। চলাে শুকনাে হাড়ের বদলে।
সন্ধান করি তাজা রক্তের, তৈরি হােক লাল আগুনে ঝলসানাে আমাদের খাদ্য।”
(‘১লা মে-র কবিতা’ ৪৬ ‘/ ঘুমনেই)
শুধু তাই নয় আঠারাের এক যৌবনী শক্তি নিয়ে তিনি সকলকে আহ্বান জানান যাবতীয় বিরুদ্ধতা উপেক্ষা করে , ভয়ঙ্কর তুফান তুলে, রক্তের বদলে প্রতিষ্ঠা করতে এক শােষণমুক্ত সমাজ –
“বেজে উঠল কি সময়ের ঘড়ি ?
এসো তবে আজ বিদ্রোহ করি,
আমরা সবাই যে যার প্রহরী
উঠুক ডাক।
……..
দেখব, ওপরে আজো আছে কারা,
খসাব আঘাতে আকাশের তারা,
সারা দুনিয়াকে দেব শেষ নাড়া,
ছড়াব ধান।
জানি রক্তের পেছনে ডাকবে সুখের বান॥”
(‘বিদ্রোহের গান ‘/ ঘুম নেই)
সুকান্তর প্রত্যক্ষ তিক্ত অভিজ্ঞতা কখনাে তাঁর স্বপ্নকে ভেঙে দেয়নি। দীর্ঘায়ু জীবনের হতাশা ক্লান্তি তাকে জীর্ণ করে তােলেনি সত্য। তবে তাকে দেখা গেছে কখনাে কাতর, কখনাে দুর্জয়, কখনাে বিষন্ন হতে। রােমান্টিক প্রেমকল্পনা বয়সের ধর্মেই তারুন্যকে দোলাচল করে; কিন্তু সুকান্তর কাছে কঠোর বাস্তবের হাতছানিতে দেশও হয়ে উঠেছে প্রিয়তমা – “তােমাকে ফেলে এসেছি দারিদ্রের মধ্যে,/
ছুঁড়ে দিয়েছি দুর্ভিক্ষের আগুনে,/
…….. ……
তবু, একটি হৃদয় নেচে উঠবে আমার আবির্ভাবে
সে তােমার হৃদয়।” (‘প্রিয়তমাসু’ / ঘুম নেই)
 

‘পূর্বাভাস’, ‘ছাড়পত্র’, ‘ঘুমনেই’, মিঠেকড়া, ‘অভিযান’ ও ‘গীতিগুচ্ছের’ প্রতিটি কবিতাই প্রায় বাস্তবলব্ধ অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক চেতনা অথচ নিজস্বতায় সমৃদ্ধ গভীর মানবতাবােধের উপর প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। ‘সিগারেট’, ‘সিঁড়ি’, ‘দেশলাই কাঠি’, ‘কলম’ প্রভৃতি শােষিত নিপীড়িত মানুষের প্রতিনিধি হয়ে উঠেছে তাই তাঁর কবিতায়। পরিশেষে বলা যায়, সমকালিন দুর্ভিক্ষ,সমাজ রাজনীতি যেমন সুকান্তর কবিসত্তাকে নির্মাণ করেছে, তেমনি তাঁর মধ্যে তারুণ্য, মমত্ববােধ , সর্বোপরি এক কবিত্বশক্তিকে ভাষা দান করেছে – তা সহজেই উপলব্ধ। যুগকে অতিক্রম করার বাসনা সুকন্তর ছিল না , ছিল নতুন যুগের সন্ধান , যেখানে ঘটবে শোষণমুক্তি । আজকের রাজনৈতিক ভাবনায় উন্মত্ত আমজনতার কাছে , কিংবা সারাবিশ্বে কোভিডি-১৯ মহামারীর ভয়াবহতা দেখে আজকের কিশোর কবি সুকান্ত কী বার্তা উপস্থাপন করতেন খুব জানতে ইচ্ছে করে।তবে
আমার কাছে সুকন্তর এই কথাটি চির প্রাসঙ্গিক মনে হয় , যা আজো আমাদের অঙ্গীকারবদ্ধ হতে উদ্বুদ্ধ করতে পারে—
“যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ, প্রাণপণে পৃথিবীর সরাব জঞ্জাল।” (‘ছাড়পত্র’/ নাম কবিতা)

তথ্যসূত্র:-
১। সুকান্ত প্রসঙ্গ (অশোক ভট্টাচার্য সম্পাদিত)
২। সুকান্ত সমগ্র
৩। আকাল( সুকান্ত ভট্টাচার্য সম্পাদিত)
৪। সুকান্তের জীবন ও কাব্য – ড. সরোজমোহন মিত্র
৫। উইকিপিডিয়া
৬। বিকাশপিডিয়া

Saturday, May 1, 2021

সরকারকে ব্যর্থ প্রমাণ করার অপচেষ্টা -দুলাল চন্দ্র চৌধুরী :প্রধান শিক্ষক ইস্কাটন গার্ডেন উচ্চ বিদ্যালয়







এ লকডাউন করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকানোর জন্য নয়। লকডাউন হেফাজতে ইসলামের নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করার জন্য। এক কথা যারা বলে তাদের আটকাতে না পারলে আমরা করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সফল হতে পারব না। টিকা কর্মসূচিকে ব্যর্থ করার জন্য নানা ফতোয়া দিচ্ছেন। একজন নেতা বলেছেন, তিনি মরে গেলেও টিকা নেবেন না। এগুলোর অর্থ কী? এর অর্থ যে কোনোভাবে সরকারকে ব্যর্থ প্রমাণ করা। এতে মানুষ বাঁচুক আর মরুক তাতে তাদের কিছু যায় আসে না।

প্রয়োজন আইন মানে না' এ প্রবাদটি সবার জানা। তবে এ কথাটি ভুক্তভোগী ব্যক্তি ছাড়া কেউ মানতেই চায় না। প্রয়োজনেই মানুষ আইন মানে না। আমরা যদি এ প্রবাদ প্রবচনটি শিরধার্য মনে করে সবাই আইন অমান্য করি তবে কি দেশের শৃঙ্খলা বজায় থাকবে? দেশে করোনা পরিস্থিতি অস্বাভাবিক আকার ধারণ করায় সরকার বাধ্য হয়েছে লকডাউন দিতে। সরকার রাষ্ট্রের প্রয়োজনে জনগণের স্বাস্থ্য নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে লকডাউনের ঘোষণা দিয়েছেন। এবার লকডাউনের ঘটনার প্রভাবগুলো একটু লক্ষ্য করুন। পেশাগত দায়িত্ব পালনে জরুরি সেবায় নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি নেই। তাদের ২৪ ঘণ্টা অনডিউটিতে থাকতে হচ্ছে। সে কারণে তাদের বেতন বেশি দেওয়া হবে, এবার কিন্তু সে ঘোষণা সরকার দেন। তাহলে জরুরি সেবায় নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এই লকডাউনের কারণে ছুটি পায়নি বরং দায় দায়িত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে। পক্ষান্তরে কিছু সরকারি, বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী ছুটি ভোগ করছেন। শুরু হলো এই দুই শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব। 

আরো জানুন:বিশ্বের সবচেয়ে কমবয়সী অধ্যাপক বাংলাদেশি বালক

এখানে কেউ আর প্রয়োজনের কথাটি স্মরণ রাখে না। এমন কি যারা এই দুর্যোগের সময় আমাদের সেবা প্রদান করছেন? তাদের প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতা বোধটুকু পর্যন্ত নেই। আবার যারা এ কাজ করেছেন তারা আবার হীনম্মন্যতায় ভোগেন অথবা ভাবেন জাতির জন্য তারা অনেক ত্যাগ করেছেন। কেউ প্রয়োজন কথাটি মনে রাখে না। শুধু আইন অমান্য করার জন্য, নিজের কথা চিন্তা করে ব্যবহার করি এই প্রবাদ প্রবচনটি। ডাক্তারকে জরুরি সেবার জন্য বাইরে যেতে এটাই প্রয়োজন কিন্তু সঙ্গে করে আইডি কার্ডটা নিয়ে এলে কোনো সমস্যা হতো? এত এত পরিচয় দেওয়ার দরকার ছিল। দেখুন ডাক্তার মহোদয়ের আইডি কার্ড নেই, এটা আমার মনে হয় না। আপনাকে পরিচয়পত্র দেওয়া হয়েছে, কেউ আপনার পরিচয় জানতে চাইলে এটা আপনি প্রর্দশন করবেন। কিন্তু এটা আপনি সঙ্গেই আনেননি। তাহলে কর্তব্যরত ব্যক্তি কীভাবে বুঝবেন আপনি ডাক্তার? হঁ্যা, এখানে কর্তব্য কী ছিল? ডাক্তার হিসেবে আপনি আপনার পরিচয়পত্র দেখাতে পারেননি এটা ভালো করে বললে কর্তব্যরত পুলিশ অফিসার বা ম্যাজিস্ট্রেট আপনার কথা রাখতেন। আপনি তা না করে আপনি কত বড়, আপনার বাবা কী ছিলেন? সে সম্পর্কে একটি রচনা লিখে ফেললেন। যার কোনো প্রয়োজন ছিল না। প্রয়োজন ছিল আইডি কার্ডের। দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট এবং পুলিশ অফিসারকে বলব সাধারণ সেন্স বলতে একটা বিষয় আছে। আপনারা আইন করতে করতে সাধারণ সেন্সসের বিষয়টা ইচ্ছকৃতভাবে ভুলে গেছেন। তারা চাকরিরত অবস্থায় বংশ পরিচয় দেওয়া শুরু করলেন। এখানে ডাক্তার, পুলিশ এবং ম্যাজিস্ট্রেট সবাই দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছেন। আমার কাছে মনে হয়েছে তারা তাদের কোটারি পরিচয় দিয়ে নিজের অযোগ্যতার পরিচয় দিয়েছেন। 

আরো জানুন:নতুন এমপিও নীতিমালা

বাংলাদেশের মানুষ আমরা কেউ ডাক্তারের পক্ষে পুলিশের পক্ষে আবার কেউ ম্যাজিস্ট্রেটের পক্ষে কথা বলছেন। তাদের কারও পক্ষেই কথা বলা যায় না। তারা কেউই প্রজাতন্ত্রের দায়িত্বশীল কর্মচারী তার প্রমাণ দিতে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণে শিল্পকারখানা খোলা রেখে সরকার লকডাউনের ঘোষণা দিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে সরকার গত বছরের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়েছেন। গত বছর লকডাউনের মধ্যে শিল্পকারখানা বন্ধ ছিল। শিল্পকারখানা মালিক এবং শ্রমিক উভয়ই লকডাউনের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে বক্তব্য বিবৃতি দিয়েছিলেন। মালিক বললেন, লকডাউনের কারণে তাদের ব্যবসার অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতি পুষিয়ে দিতে হবে। সরকার ব্যবসায়ীদের জন্য প্রণোদনা ঘোষণা করলেন। শ্রমিকদের আন্দোলনের মুখে শিল্পকারখানা খুলে দিলেন। এবারে শিল্পকারখানা খোলা রেখেই লকডাউন দেওয়া হয়েছে। সে ক্ষেত্রে মালিকদের কিছু শর্ত দেওয়া হলো। শিল্পকারখানায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। নিজস্ব পরিবহণে কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের আনা নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। মালিক পক্ষ এ শর্ত মেনেই কারখানা চালাচ্ছে। শিল্পকারখানায় মালিক ও শ্রমিকের সন্তোষ বিরাজ করেছে। কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যাইনি। শ্রমিকদের প্রয়োজন পড়েনি আইন অমান্য করার। তাই তারা আইন অমান্য করেনি। ধন্যবাদ শ্রমিক ভাইদের। কোনো কিছু করার পূর্বে ভালো-মন্দ চিন্তা করে সংশ্লিষ্টদের সুবিধা অসুবিধার কথা চিন্তা করে সব পক্ষই মেনে নেয়। 

এবারের লকডাউন তুলনামূলক বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় অত্যন্ত সুন্দরভাবে পালিত হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সবাই সাড়া দিয়েছেন। তবে রিকশাচালক, সিএনজি চালক, রাস্তার পাশের খুচরা ব্যবসায়ীদের কথা চিন্তা করলে আরো সুন্দরভাবে লকডাউন পালিত হতো। করোনা সংক্রমণের হার আরও কমতো বলে বিজ্ঞজনের ধারণা। রিকশা/সিএনজি মালিকদের মাধ্যমে যদি চালকদের কোনো মতে পরিবার-পরিজন নিয়ে খেয়ে বাঁচার মতো প্রণোদনা দেওয়া হতো তবে তারা রিকশা/সিএনজি নিয়ে রাস্তায় নামত না। তাদের রাস্তায় নামার প্রয়োজন পড়ত না। আর তারা আইন অমান্য করত না। আমার মনে হয়, এদের নিয়ে কোনো পরিকল্পনাই ছিল না। তাদের রাস্তায় বের হতে নিষেধ করেননি। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের রিকশা উল্টে দিয়েছেন। চাকার গ্যাস ছেড়ে দিয়ে। দুই-তিন ঘণ্টা দাঁড় করিয়ে রেখেছেন। যেটা অমানবিক। এরা কিন্তু সেভাবে তারা প্রতিবাদ করেনি। তারা বুঝতে পেরেছে এটা তাদের উচিত হয়নি। তাদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা থাকলে তারা অবশ্যই রাস্তায় বের হতেন না। সবারই মৃতু্য ভয় আছে। দিনমজুরেরও আছে। কিন্ত ভয় করলেতো তাদের চলে না। তারা কাজ না করলে পরিবারের বাকি সদস্যরা তো না খেতে পেয়ে মারা যাবে। তাই প্রয়োজনে তারা আইন অমান্য করেছেন। এদের রাস্তায় দাঁড় করিয়ে রাখা সত্যিই ছিল অমানবিক। ওদের বের হওয়া তো নিষেধ ছিল না। তাহলে ওদের ওপর এ অবিচার কেন করা হলো? বিশিষ্ট জনদের কাছে এটি বড়ই অন্যায় বলেই মনে হয়েছে। আর কয়েকটি শ্রেণির দিকে যথাযথ কর্তৃপক্ষের খেয়াল দিতে হবে- তারা হলো হকার, যারা রাস্তায় ঘুরে বাদাম, ঝালমুড়ি, আইসক্রিম, বিক্রি করেন। যারা পাড়ায় মহলস্নায় ঘুরে পুরাতন জিনিসপত্র ক্রয় করেন। রাস্তার পাশে ফুটপাতে যারা চা, সিগারেট, বিস্কুট, বনরুটি বিক্রি করেন। এদের প্রণোদনার আওতায় নিয়ে লকডাউন দিলে আরও ফলপ্রসূ হতো। কারণ এরা বাঁচার তাগিদে রাস্তায় নেমেছে। প্রয়োজনের কারণে আইন অমান্য করেছেন।

আরো জানুন:প্রধান শিক্ষকদের অধিকার বাস্তবায়নে আসছে নতুন সংগঠন

 আর এ সব পেশার মানুষ রাস্তায় না থাকলে কিছু বেহুদা মানুষ রাস্তায় থাকার সুযোগ পেত না। তবে প্রয়োজন ব্যতিরেকে কেউ রাস্তায় বেরিয়েছে এ আমার মনে হয় না। কিছু ব্যতিক্রম তো থাকবেই একজন খেটে খাওয়া মানুষ মাস্ক না পরার পক্ষে যুক্তি দিলেন। তার দাদার বংশের কেউর করোনা হয়নি। তার নানার বংশের কেউর করোনা হয়নি। সে কেন মাস্ক পরবেন? দাবি ন্যায্য। এ লোকটার দোষ আমরা দেব না। এ অবুঝ, একে আমরা বুঝাতে ব্যর্থ হয়েছি। তবে এটা যে তার নিজের কথা নয়। এটা সহজেই অনুমান করা যায়। এক শ্রেণির বুঝদার লোক জেনে বুঝে সাধারণ মানুষকে উল্টা-পাল্টা বুঝাচ্ছেন। তারা বলছেন, করোনা বলতে কিছু নেই। এক শ্রেণির সাধারণ মানুষ তাই বুঝে নিয়েছে। যারা এই ভুল বুঝালো তাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে হবে। করোনার ভয়াবহতার কথা চিন্তা করে লকডাউনের ঘোষণা দেওয়া হলো। তারা বলে দিলেন, হেফাজতে ইসলামের আন্দোলন কর্মসূচি বানচালের জন্য লকডাউনের ঘোষণা দিয়েছেন। একজন নেতা তো ঘোষণা করেছে লকডাউন বন্ধ করুন, প্রয়োজন হলে তারা সবাই কারাগারে যাবে। এর মানে কী? এ লকডাউন করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকানোর জন্য নয়। লকডাউন হেফাজতে ইসলামের নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করার জন্য। এক কথা যারা বলে তাদের আটকাতে না পারলে আমরা করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সফল হতে পারব না। টিকা কর্মসূচিকে ব্যর্থ করার জন্য নানা ফতোয়া দিচ্ছেন। একজন নেতা বলেছেন, তিনি মরে গেলেও টিকা নেবেন না। এগুলোর অর্থ কী? এর অর্থ যে কোনোভাবে সরকারকে ব্যর্থ প্রমাণ করা। এতে মানুষ বাঁচুক আর মরুক তাতে তাদের কিছু যায় আসে না। 

দুলাল চৌধুরী :প্রধান শিক্ষক ইস্কাটন গার্ডেন উচ্চ বিদ্যালয় ও যুগ্ম আহ্বায়ক কেন্দ্রীয় কমিটি বাংলাদেশ মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান পরিষদ

বাণী চিরন্তণী Motivational quotes

Popular Posts

Hindu international Consciousness

ad

Featured Post

পবিত্র বেদ পাঠ,পবিত্র বেদ পাঠ বিভাগ – ॐ সনাতন ধর্মতত্ত্ব পবিত্র বেদের উৎপত্তি ও ইতিহাস

বেদ মাতার ইচ্ছায় বাংলা ভাষায় ঋগ্বেদের মূলমন্ত্র অর্থ ও টীকাসহ প্রকাশের চেষ্টা করা হয়েছে। ধীরে ধীরে এর কলেবর বৃদ্ধি করার চেষ্টা চলতে থাক...