b Sanatan Dharma - সনাতন ধর্ম: Biography

https://a-ads.com/

ব্রেকিং নিউজ

সর্বশেষ সংবাদ সবার আগে বিস্তারিত জানতে চোখ রাখুন । আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য বিজ্ঞাপন দিন। বিজ্ঞপ্তি: জরুরী সংবাদকর্মী নিয়োগ চলিতেছে…। আপনি কি কম খরচে Website, Bloggersite, Youtube channel, E-commica site তৈরি করতে চান? যোগাযোগ করুন বিস্তারিত : মোবাইল: 01712475454,01940103713 , দেশ - বিদেশের খবর সবার আগে জানতে সাথে থাকুন।আমাদের সংঙ্গে থাকার জন্য ধন্যবাদ এ রকম আরও ভিডিও/ সর্বশেষ সংবাদ Update News পেতে আমাদের Website /Youtube Channel পেইজে লাইক দিন৷ ❤️ ✌ ✔️ কোন মতামত বা প্রশ্ন থাকলে কমোন্ট করে জানান।
Showing posts with label Biography. Show all posts
Showing posts with label Biography. Show all posts

Friday, July 16, 2021

সরস্বতী পুজো কি ভাবে করবেন তার নিয়ম ও মন্ত্রঃ

 

সরস্বতী পুজো কি ভাবে করবেন তার নিয়ম ও মন্ত্রঃ
সরস্বতী

সকালে স্নান সেরে শুদ্ধাচারে দেবীর আসন পাতার পরে যথাবিধ নিয়মে শুরু করতে হয় পুজো। বাড়িতে যাঁরা পুজোর আয়োজন করছেন, দেখে রাখতে পারেন বিশেষ কিছু মন্ত্র। 

বাড়িতে যাঁরা পুজোর আয়োজন করছেন, দেখে রাখতে পারেন বিশেষ কিছু মন্ত্র

Monday, June 28, 2021

Mother Teresa Early Life মাদার টেরেসার জীবনী Mother Teresa Biography in Bengali



গরীব-আর্ত ও সর্বহারাদের সেবায় যিনি নিজেকে শেষ দিন পর্যন্ত নিয়োজিত করেছিলেন সেই অ্যাগনিস গঞ্জা বোজাঝিউকে সকলে স্বয়ং ঈশ্বরের দূত মনে করতেন | যাদের সমাজে কোনো স্থান ছিলোনা,তাদের সযত্নে নিজের কোলে আশ্রয় দিয়েছিলেন আলবেনিয়া থেকে ভারতে আসা এই মহিয়সী নারী |

Wednesday, May 26, 2021

বাংলার ইতিহাসে হরিচাঁদ ঠাকুর ও গুরুচাঁদ ঠাকুরের আবদান , Biography of harichand guruchad thakur

 

বাংলার ইতিহাসে হরিচাঁদ ঠাকুর ও গুরুচাঁদ ঠাকুরের আবদান | Biography of harichand guruchad thakur




বাংলার ইতিহাসে হরিচাঁদ ঠাকুর ও গুরুচাঁদ ঠাকুরের আবদান, Biography of harichand guruchad thakur

প্রাচীন বাংলার এক বিখ্যাত  ধর্মগুরু ,দার্শনিক , গৌতম বুদ্ধদেব শ্রী চৈতন্যদেবের যুগপৎ অবতার,অলৌকিক ক্ষমতাসম্পন্ন, জাতিভেদ বিরোধী,  মনীষী, মহামানব, মহান গুরু,মতুয়াবাদ প্রতিষ্ঠাকারি, দলিত,নমঃ(শূদ্র)দের  ত্রাণকর্তা, এক কিংবদন্তী ছিলেন শ্রীশ্রী হরিচাঁদ  ঠাকুর  গুরুচাঁদ ঠাকুর   |

 Read More: সুকান্ত ভট্টাচার্যের জীবনী

গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী থানার অন্তর্গত ওঢ়াকাঁন্দির সফলাডাঙ্গা গ্রামে

প্রায় দুশো বছর আগে ১২১৮ বঙ্গাব্দের ফাল্গুন মাসে (১৮৪৬ সালের ১৩ মার্চ) শ্রীশ্রী হরিচাঁদ ঠাকুর জন্মগ্রহণ করেন। পিতা যশোবন্ত ঠাকুর মাতা অন্নপূর্ণা দেবী। যশোবন্ত নমঃশূদ্র সম্প্রদায়ের ছিলেন। বৈষ্ণবভক্ত হিসেবেও এলাকায় তিনি বেশ পরিচিত ছিলেন। হরিচাঁদ ঠাকুর জন্মেছিলেন এক মাহেন্দ্রক্ষণে। জন্মের সময় তাঁর শরীরে বত্রিশ রকমের লক্ষণ ছিল, যা হিন্দুশাস্ত্র অনুযায়ী অবতার পুরুষের বিশেষ লক্ষণ। এই লক্ষণগুলি গৌতম বুদ্ধের শরীরেও ছিল। অনেকেই মনে করেন হরিচাঁদ ঠাকুর আসলে বুদ্ধদেব শ্রী চৈতন্যদেবের যুগপৎ অবতার।

হরিচাঁদ ঠাকুর অত্যন্ত সাদামাটা জীবনযাপনে অভ্যস্ত ছিলেন। প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়ার সুযোগ পাননি।

প্রথম জীবনে হরিচাঁদ ঠাকুর মাঠে গরু চরাতেন।

অলৌকিক ক্ষমতাবলে তিনি ভক্তদের রোগ থেকে মুক্ত করাসহ বিভিন্ন কল্যাণসাধন করতেন। ধীরে ধীরে হরিচাঁদ ঠাকুরের ভক্তসংখ্যা বাড়তে থাকে। হরিভক্তদের মতুয়া বলা হয়।

Tuesday, May 25, 2021

জীবনী Biography In Bangla part #Biographybanglarabindranath রবীন্দ্রনাথের বিখ্যাত বাণী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অসাধারণ

 

Goutom buddho biography || গৌতম বুদ্ধের জীবনী || The Great Life Story of Goutom buddho #ChanakyabanglaBiography প্রাচীন ভারতীয় দার্শনিক ও অর্থনীতিবিদ চাণক্য এর জীবনী || Biography Of Chanakya In Bangla #বাণী #Rabindranath রবীন্দ্রনাথের বিখ্যাত বাণী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অসাধারণ কিছু বাণী | Rabindranath bani বাংলার ইতিহাসে হরিচাঁদ ঠাকুর ও গুরুচাঁদ ঠাকুরের আবদান | Biography of harichand guruchad thakur #Biographybanglarabindranath #RabindranathTagorebani Life History of Rabindranath Tagore || বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবনী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনী || Short Biography of Bangla Sheikh mujibur Rahman part-2 বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জীবনী || Sheikh Hasina Biography In Bangla part #NarendraModibanglabiography চা বিক্রেতা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী || Narendra Modi biography | नरेंद्र मोदी की जीवनी part 1 Donald Trump biography in bangla || ডোনাল্ড ট্রাম্পের জীবনের বিস্ময়কর অজানা তথ্য ইতিহাস জেনে নিন বৌদ্ধ ধর্মগুরু দালাইলামার জীবন সংগ্রামের কাহিনী || Dalai Lama Biography Biography Of prime minister pakistan Imran Khan In Bangla || Biography Of Crickter Imran Khan Biography Hal Elrod | হ্যাল এল রড বাণী জীবনী | Miracle Morning 6 Morning Habits of Successful People

সুকান্ত ভট্টাচার্যের জীবনী#SukantaBhattacharya #sukantobanglaBiography Biography of Sukanta Bhattacharya সুকান্ত ভট্টাচার্য -জানা অজানা

 

সুকান্ত ভট্টাচার্যের জীবনী

সুকান্ত ভট্টাচার্য

#SukantaBhattacharya #sukantobanglaBiography

Biography of Sukanta Bhattacharya | #সুকান্তভট্টাচার্য -জানা অজানা


জন্মঃ ১৫ই আগস্ট ১৯২৬ সালে। মাতামহের বাড়ি কলকাতার কালীঘাটের ৪৩,মহিম হালদার স্ট্রীটের বাড়িতে সুকান্ত ভট্টাচার্য জন্মগ্রহণ করেন।

বাংলা সাহিত্যের মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি।

আট-নয় বছর বয়স থেকেই সুকান্ত লিখতে শুরু করেন। স্কুলের হাতে লেখা পত্রিকা ‘সঞ্চয়ে’ একটি ছোট্ট হাসির গল্প লিখে আত্মপ্রকাশ করেন। তার দিনকতক পরে বিজন গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘শিখা’ কাগজে প্রথম ছাপার মুখ দেখে তার লেখা বিবেকান্দের জীবনী। মাত্র এগার বছর বয়সে ‘রাখাল ছেলে’ নামে একটি গীতি নাট্য রচনা করেন। এটি পরে তার ‘হরতাল’ বইতে সংকলিত হয়। বলে রাখা ভালো, পাঠশালাতে পড়বার কালেই ‘ধ্রুব’ নাটিকার নাম ভূমিকাতে অভিনয় করেছিলেন সুকান্ত। সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় বাল্য বন্ধু লেখক অরুণাচল বসুর সঙ্গে মিলে আরেকটি হাতে লেখা কাগজ ‘সপ্তমিকা’ সম্পাদনা করেন। অরুণাচল তার আমৃত্যু বন্ধু ছিলেন। মার্কসবাদী চেতনায় আস্থাশীল কবি হিসেবে সুকান্ত কবিতা লিখে বাংলা সাহিত্যে স্বতন্ত্র স্থান করে নেন। সুকান্তকে বলা হয় গণমানুষের কবি। অসহায়-নিপীড়িত সর্বহারা মানুষের সুখ, দুঃখ তার কবিতার প্রধান বিষয়। অবহেলিত মানুষের অধিকার আদায়ের স্বার্থে ধনী মহাজন অত্যাচারী প্রভুদের বিরুদ্ধে নজরুলের মতো সুকান্তও ছিলেন সক্রিয়। যাবতীয় শোষণ-বঞ্চনার বিপক্ষে সুকান্তের ছিল দৃঢ় অবস্থান। তিনি তার কবিতার নিপুণ কর্মে দূর করতে চেয়েছেন শ্রেণী বৈষম্য। মানবতার জয়ের জন্য তিনি লড়াকু ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। অসুস্থতা অর্থাভাব তাকে কখনো দমিয়ে দেয়নি। মানুষের কল্যাণের জন্য সুকান্ত নিরন্তর নিবেদিত থেকেছেন। তিনি মানবিক চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে বিদ্রোহের ডাক দিয়েছেন। তার অগ্নিদীপ্ত সৃষ্টি প্রণোদনা দিয়ে সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করতে প্রয়াসী ছিলেন।


মানবিক চেতনায় উদ্বুদ্ধ কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য বাংলা কাব্যধারার প্রচলিত প্রেক্ষাপটকে আমূল বদলে দিতে পেরেছিলেন। সুকান্ত কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা দৈনিক স্বাধীনতার (১৯৪৫) ‘কিশোর সভা’ বিভাগ সম্পাদনা করতেন। মার্কসবাদী চেতনায় আস্থাশীল কবি হিসেবে সুকান্ত কবিতা লিখে বাংলা সাহিত্যে স্বতন্ত্র স্থান করে নেন।তার কবিতায় অনাচার ও বৈষ্যমের বিরুদ্ধে প্রবল প্রতিবাদ পাঠকদের সংকচিত করে তোলে। গণমানুষের প্রতি গভীর মমতায় প্রকাশ ঘটেছে তার কবিতায়। তার রচনাবলির মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো: ছাড়পত্র (১৯৪৭), পূর্বাভাস (১৯৫০), মিঠেকড়া (১৯৫১), অভিযান (১৯৫৩), ঘুম নেই (১৯৫৪), হরতাল (১৯৬২), গীতিগুচ্ছ (১৯৬৫) প্রভৃতি। পরবর্তীকালে উভয় বাংলা থেকে সুকান্ত সমগ্র নামে তার রচনাবলি প্রকাশিত হয়। সুকান্ত ফ্যাসিবাদবিরোধী লেখক ও শিল্পিসঙ্ঘের পক্ষে আকাল (১৯৪৪) নামে একটি কাব্যগ্রন্থ সম্পাদনা করেন।সুকান্তের কবিতা বিষয়বৈচিত্র্যে ও লৈখিক দক্ষতায় অনন্য। সাধারণ বস্তুকেও সুকান্ত কবিতার বিষয় করেছেন। বাড়ির রেলিং ভাঙা সিঁড়ি উঠে এসেছে তার কবিতায়। সুকান্তের কবিতা সব ধরনের বাধা-বিপত্তিকে জয় করতে শেখায়। যাপিত জীবনের দুঃখ-যন্ত্রণাকে মোকাবেলা করার সাহস সুকান্তের কবিতা থেকে পাওয়া যায়। তারুণ্যের শক্তি দিয়ে উন্নত শিরে মানুষের মর্যাদার জন্য মানুষকে প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান সুকান্তের কবিতায় লক্ষণীয়। সুকান্তের কবিতা সাহসী করে, উদ্দীপ্ত করে। তার বক্তব্যপ্রধান সাম্যবাদী রচনা মানুষকে জীবনের সন্ধান বলে দেয়। স্বল্প সময়ের জীবনে তিনি বাংলা সাহিত্যকে অনেক কিছু দিয়ে গেছেন। রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, দিজেন্দ্রলাল রায়, জীবনানন্দ দাশসহ সে সময়ের বড় বড় কবির ভিড়ে তিনি হারিয়ে যাননি। নিজের যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখে গেছেন নিজ প্রতিভা, মেধা ও মননে। সুকান্ত তার বয়সিক সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করেছেন তার পরিণত ভাবনায়। ভাবনাগত দিকে সুকান্ত তার বয়স থেকে অনেক বেশি এগিয়ে ছিলেন।

উল্লেখযোগ্য সৃষ্টিঃ ছাড়পত্র, ঘুম নেই, পূর্বাবাস তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ।

মৃত্যুঃ ১৩ মে ১৯৪৭| তিনি একাধারে বিপ্লবী ও স্বাধীনতার আপোসহীন সংগ্রামী কবি সুকান্ত ছিলেন কমুনিষ্ট পার্টির সারাক্ষণের কর্মী। পার্টি ও সংগঠনের কাজে অত্যধিক পরিশ্রমের ফলে নিজের শরীরের উপর যে অত্যাচারটুকু তিনি করলেন তাতে তার শরীরে প্রথম ম্যালেরিয়া ও পরে দুরারোগ্য ক্ষয়রোগে আক্রান্ত হয়ে ১৯৪৭ সালের ১৩ই মে মাত্র ২১ বছর বয়সে কলিকাতার ১১৯ লাউডট স্ট্রিটের রেড এড কিওর হোমে মৃত্যুবরণ করেন। সুকান্ত ভট্টাচার্যের জীবন মাত্র ২১ বছরের আর লেখালেখি করেন মাত্র ৬/৭ বছর। সামান্য এই সময়ে নিজেকে মানুষের কবি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে গেছেন। তার রচনা পরিসরের দিক থেকে স্বল্প অথচ তা ব্যাপ্তির দিক থেকে সুদূরপ্রসারী।


সুকান্ত ভট্টাচার্য প্রশ্ন,সুকান্ত ভট্টাচার্য এর মৃত্যু,সুকান্ত ভট্টাচার্য কবিতা pdf,সুকান্ত ভট্টাচার্য কবিতা সমগ্র
সুকান্ত ভট্টাচার্য প্রশ্ন উত্তর,সুকান্ত ভট্টাচার্য বাণী,সুকান্ত ভট্টাচার্য ছবি,সুকান্ত ভট্টাচার্য প্রেমের কবিতা

কিশোর কবি সুকান্ত ও তাঁর কবিতায় আকালের চিত্র
রচনা:- কিশোর মজুমদার
Sukanta Bhattacharya, কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য, বাংলা কাব্যসাহিত্যে সুকান্ত ভট্টাচার্যের অবদান , কবি সুকান্ত, ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময় … , সুকান্ত ভট্টাচার্যের বিখ্যাত উক্তি, এগুলি সম্পর্কিত বিস্তারিত বিষয় এই রচনায় গ্রন্থিবদ্ধ করা হয়েছে ।


কবি সুকান্ত ও তাঁর কবিতায় আকাল
বাংলা কাব্য সাহিত্যের জগতে সুকান্ত ভট্টাচার্য (১৯২৬-১৯৪৬) এক অতি পরিচিত এবং জনপ্রিয় নাম । সবার প্রিয় এই ‘কিশাের কবি’ শােষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার আদর্শে উদ্বুদ্ধ সংগ্রামী মানুষের প্রেরণা ছিলেন । তাঁর প্রতিভার চমক আর কবিতার বিপুল আবেদন জীবৎকালেই তাকে বেশ জনপ্রিয় করেছিল । স্বাধীনতার স্বপ্নে বিভাের এই কবি দেশ স্বাধীন হবার মাত্র তিন মাস আগে ১৯৪৭ সালের ১২ই মে পার্থিব মায়া ত্যাগ করে চলে যান বড় অসময়ে। সুকান্তর এই মৃত্যুটাই যেন বাঙালির কাছে একটা বেদনাবিধুর কবিতা।
সুকান্তর শৈশব ও কৈশাের কেটেছিল দেশের উত্তাল আবহাওয়া ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহ ব্যাপ্তির মধ্যে। যেখানে ছিল মন্বন্তর, ফ্যাসিস্ট-বিরােধী আন্দোলন, স্বাধীনতা সংগ্রাম, শ্রমিক ধর্মঘট আর ভ্রাতৃঘাতী সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা। ১৯৪০ থেকে ১৯৪৭ এইভয়াবহ উত্তাল সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেই সুকান্তর কাব্যচর্চা। ফলে তাঁর রচনায় আমরা খুঁজে পাই সমকালীন সামাজিক, রাজনৈতিক পরিবেশ পরিস্থিতির কাব্যরূপায়ণ। আর এখানেই তিনি সমযুগে স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখেছেন। রবীন্দ্রনাথ শেষ বয়সে এমন একজন কবিকে আহ্বান করে গিয়েছিলেন, যিনি গাইবেন মাটির কাছের নিপীড়িত মানুষের জাগরণের গান, মাটির মর্মবাণী যিনি শােনাবেন বাংলা কাব্যের আকাশে বাতাসে। সে গান রবীন্দ্রনাথ গাইতে পারেন নি; তবে প্রত্যাশা করেছিলেন একজন গাইবেন। বলাকা’র পরে নবজাতক-এ তিনি আন্তরিক আহ্বান জানালেন নবীন আগন্তুককে –

 

“নবীন আগন্তুক
নবযুগ তব যাত্রার পথে
চেয়ে আছে উৎসুক।”
-কবির এই আহ্বানে সাড়া দিতেই যেন সুকান্ত এক নবজাতকের ছাড়পত্র নিয়ে আবির্ভূত হয়েছেন
“এসেছে নতুন শিশু , তাকে ছেড়ে দিতে হবে স্থান;
জীর্ণ পৃথিবীতে ব্যর্থ, মৃত আর ধংসস্তুপ – পিঠে
চলে যেতে হবে আমাদের।” (ছাড়পত্র /নাম কবিতা)
শােষিত নিপীড়িত, বঞ্চিত ক্ষুধাতুর মানুষের মধ্যে সংগ্রামী চেতনা উজ্জীবিত করে এক বিপ্লবের স্পন্দন জাগিয়ে তোলাই ছিল সুকান্তর ‘দৃঢ় অঙ্গীকার’।

 
কোনাে ভাব কল্পনা বা আদর্শ আকাশ থেকে পড়ে না, জীবনের মধ্যেই তার সৃষ্টি – আর সেই জীবন সমাজবদ্ধ। তাই বলা যায় কোনাে ভাব বা আদর্শের মধ্যেই নিহিত আছে সৃষ্টিকালের সমাজ চেতনা। সামাজিক ইতিহাসের মধ্যেই সে যুগের সমাজ-চেতনার সন্ধান করতে হয়। কোনাে ঐতিহাসিক যুগের আর্থ সামাজিক কাঠামাে সেই যুগের রাজনৈতিকও মানসিক ইতিহাসের ভিত্তিভূমি। এক সময় ভূমির ওপর ছিল মানুষের যৌথ মালিকানা আর যেদিন থেকে যৌথ মালিকানা অবলুপ্ত হতে থাকে তখন থেকেই শুরু হয় শ্রেণি সংগ্রামের ইতিহাস। সমাজ বিকাশের বিভিন্ন স্তরে শুরু হয় অবদমিত ও প্রভূত্বকারী শ্রেণির তথা শােষক-শােষিতের সংগ্রামের ইতিহাস।
ভারত তথা বাংলাদেশে যখন বিদেশী শাসনশােষণ-অপশাসনে পীড়িত সাধারণ মানুষ, তখন সমাজের ভেতরের অবস্থাও ছিল সঙ্কটময়।


জমিদার, ধনীক শ্রেণি , বণিক শ্রেণি ও মহাজনদের হাতে নিষ্পেষিত হতে থাকে ক্রমশ শ্রমিক শ্রেণিতে পরিণত হতে থাকা কৃষক ও দরিদ্র মানুষ। এর সঙ্গে ঘৃতাহুতি দেয় বিভিন্ন সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা। এই অপশাসনের নিষ্ঠুর চিত্র দেখেই নজরুল গাইলেন সাম্যের গান। তাঁর কবিতায় তুলে ধরলেন কীভাবে বাবু শ্রেণির হাতে নির্যাতিত হয় নিম্নবিত্তের মানুষ:-

“দেখিনু সেদিন রেলে কুলি ব’লে এক বাবুসাব তারে ঠেলে দিল নীচে ফেলে/চোখ ফেটে এল জল— এমনি করে কি জগৎ জুড়িয়া মার খাবে দুর্বল ! ”

আরও পড়ুনঃবাংলা কাব্যে কাজী নজরুল ইসলামের অবদান


ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের নির্মম শােষণের এক শোচনীয় পরিণাম ঘন ঘন দুর্ভিক্ষ। ছিয়াত্তরের মন্তরের মর্মন্তুদ চিত্র বঙ্কিমের ‘আনন্দমঠ’-এ চিত্রিত হয়েছে। কিন্তু তার চেয়েও ভয়াবহ ছিল তেরশাে পঞ্চাশের মন্বন্তর। যার পেছনে প্রত্যক্ষ ও পরােক্ষ কারণ ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। – পঞ্চাশের মন্বন্তরের জীবন্ত আলেখ্য ফুটে উঠেছে বিভিন্ন লেখকের রচনায়। ম্যান-মেড বা কৃত্রিমভাবে সৃষ্ট এই দুর্ভিক্ষে ‘ মারী আর মড়কের দুঃসহ আঘাতে বারবার বিপন্ন ‘ হয়ে যাওয়া কৃষিজীবী ও গ্রামের দরিদ্র মানুষ শহরমুখী হয়।
সুকান্তর অগ্রজ কবি সুভাষ মুখােপাধ্যায় লিখেছেন – ‘গ্রাম উঠে গিয়েছে শহরে’ (স্বাগত)।

 

কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য তাঁর সম্পাদিত ‘ আকাল’ (১৩৫১) কাব্যগ্রন্থের ‘কথামুখ’-এ লিখেছেন,

“তেরােশাে পঞ্চাশ সম্বন্ধে কোনাে বাঙালিকে কিছু বলতে যাওয়া অপচেষ্টা ছাড়া আর কী হতে পারে ? কেননা তেরশাে পঞ্চাশ কেবল ইতিহাসের একটা সাল নয়, নিজেই একটা স্বতন্ত্র ইতিহাস। সে ইতিহাস একটা দেশ শ্মশান হয়ে যাওয়ার ইতিহাস,ঘরভাঙা গ্রামছাড়ার ইতিহাস, দোরে দোরে কান্না আর পথে পথেমৃত্যুর ইতিহাস,আমাদের
অক্ষমতার ইতিহাস।”


— এই কথা ক’টিই প্রমাণ করে কিশাের কবিকে কীভাবে নাড়া দিয়েছিল এই মন্বন্তর বা আকাল ‘ এর প্রত্যেকটি কবিতাই ছিল কালবেলার বুভুক্ষু মানুষের যন্ত্রণার আর্তনাদ ও মস্থরের পরিণতি বিষয়ক কবিতা। সেই ভয়াবহ বাতাবরণে দাঁড়িয়ে কবি সুকান্ত নিজেকে তাই | ‘দুর্ভিক্ষের কবি’ বলে উল্লেখ করেছেন সঙ্গত কারণেই। দুর্ভিক্ষের বেদনা বিধুর কবিতাই কেবল তিনি রচনা করেন নি তুলে ধরেছেন খাদ্যের। সারিতে দাঁড়ানাে মানুষটির অসহায়তাকেও – “আমার বসন্ত কাটে খাদ্যের সারিতে প্রতীক্ষায়, / আমার বিনিদ্র রাতে সতর্ক সাইরেন ডেকে যায়।” (রবীন্দ্রনাথের প্রতি’/ ছাড়পত্র)
মন্বন্তরের মৃত্যু শবাকীর্ণ দিনগুলিতে একদিকে বিপন্ন সাধারণ মানুষ, অপরদিকে মুনাফালােভী কালােবাজারির ক্রমবর্ধমান শোষণের সঙ্গে তাল রেখে বাড়ছিল অসহায় হতাশ মানুষের আত্মসমর্পণ। ঘুরে দাঁড়ানাের স্বপ্ন নিয়েই কিশাের কবি প্রতিবাদে সােচ্চার হয়েছিলেন। তুলে নেন তার ধারালাে কলম; একের পর এক বিদ্রোহ, বিপ্লব আর প্রতিবাদের এলােপাথাড়ি আঁচড় দিতে থাকেন ঘুন-ধরা সমাজের গায়ে। ‘কলম’ও শেষ পর্যন্ত হয়ে ওঠে শোষিত মানুষ –

“কলম! বিদ্রোহ আজ দলবেঁধে ধর্মঘট করাে।
লেখক স্তম্ভিত হােক, কেরানিরা ছেড়ে দিক হাঁফ,
মহাজনী বন্ধ হােক, বন্ধ হােক মজুরের তাপ
উদ্বেগ আকুল হােক প্রিয়া যত দূর দেশে দেশে,
কলম ! বিদ্রোহ আজ, ধর্মঘট হােক অবশেষে;
আর কালাে কালি নয়, রক্তে আজ ইতিহাস লিখে
দেয়ালে দেয়ালে এঁটে হে কলম — আনাে দিকে দিকে।”
(কলম – ‘ছাড়পত্র)

আরও পড়ুনঃ বাংলা কাব্যে বিষ্ণু দে-র অবদান

আধুনিক বাংলা কবিতায় কবি জীবনানন্দ দাশের অবদান


শোষক শ্রেণির প্রতি তীব্র ঘৃণা প্রতিফলিত হয়েছে তার ব্ল্যাক মার্কেট ছড়াটিতে –
“হাত করে মহাজন; হাত করে জোতদার,
ব্ল্যাকমার্কেট করে ধনীরাম পােদ্দার
গরীব চাষীকে মেরে হাতখানা পাকালাে
বালিগঞ্জেতে বাড়ি খান ছয় হাঁকলাে ।
কেউ নেই ত্রিভুবনে, নেই কিছু অভাব-ও
তবু ছাড়লাে না তার লােকমারা স্বভাব-ও।”
(ব্ল্যাকমার্কেট – ‘মিঠেকড়া’)

কাব্যরচনার গােড়াতেই সুকান্ত বুঝেছিলেন এই সময় কাব্যরচনা অলস বিনােদনের জন্য নয়। ক্ষুধার রাজ্য শুরু হয়ে গেছে। কাজেই রােমান্টিক ভাবালুতা আর চাঁদ-তারা-পাখি-গান-ফুল তাঁর কবিতা থেকে বিদায় নিয়েছে। রােমান্সের থালাভরা চাঁদ তার কাছে হয়ে ওঠে ঝলসানাে রুটি –

“হে মহাজীবন, আর এ কাব্য নয়/এবার কঠিন, কঠোর গদ্যে আনো,/পদ-লালিত্য ঝঙ্কার মুছে যাক / গদ্যের কড়া হাতুড়িকে আজ হানো!/ প্রয়োজন নেই কবিতার স্নিগ্ধতা—/কবিতা তোমায় দিলাম আজকে ছুটি,/ ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়:/ পূর্ণিমা-চাঁদ যেন ঝল্সানো রুটি।।(‘হে মহাজীবন’ /ছাড়পত্র)

আরও পড়ুনঃবিহারীলাল চক্রবর্তীকে কে , কেন ‘গীতিকবিতার ভোরের পাখি ‘ বলেছেন?

বিশ্ব ইতিহাসে বেশ কিছু পরিবর্তন আরম্ভ হয়েছিল বিংশ শতকের দ্বিতীয় দশক থেকেই। ১৯১৭ খ্রীঃ রাশিয়ার সমাজতান্ত্রিক সােভিয়েত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। ১৯১৯ এর রাওলাট আইনে যখন বৃটিশ সাম্রাজ্যবাদী শক্তির নগ্নরূপ প্রকাশ পায়, তখন বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদী এবং সন্ত্রাসবাদী আন্দোলনের সমান্তরাল সাম্যবাদী ভাবধারা প্রবেশ করে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধোত্তর পরিস্থিতিতে সমগ্র ইউরােপে যখন উত্তাল অবস্থা, ভারতের অবস্থাও তখন সংকটাপন্ন। ত্রিশের দশকে তখন শুরু হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের রণহুঙ্কার। জাপান আক্রমণ করল চিনকে, জার্মান আক্রমণ করল পােল্যান্ডকে
তখন মানবতার চরম অপমানে রবীন্দ্রনাথ ‘প্রায়শ্চিত্ত’, ‘বুদ্ধভক্তি’ প্রভৃতি কবিতায় প্রতিবাদ ব্যক্ত করেছিলেন। পৃথিবীব্যাপী শােষণের বিশেষ রূপই যে ভারতের ঔপনিবেশিক শাসন – সে সত্য অতি অল্প বয়সেই সুকান্তর কবি চেতনায় অপমানের জ্বালা রূপে প্রকাশ পেয়েছে –
“এ দেশে জন্মে পদাঘাত-ই শুধু পেলাম,
অবাক পৃথিবী সেলাম – তােমাকে সেলাম।” (অনুভব – ১৯৪০ ছাড়পত্র)
সেদিনের এই তরতাজা কিশােরের রক্তে ধ্বনিত হওয়া মার্কস, লেনিন, গাের্কি প্রমুখর সমাজতান্ত্রিক ও সাম্যবাদী ভাবনা অন্ততঃ যুগের প্রেরণার ফসল একথা ঠিক। সুকান্তও তাই সর্বহারার অবস্থানে দাঁড়িয়ে সাম্যবাদী ভাবধারায় উদ্বুদ্ধ হয়েছিলেন সে সময়। সমাজতান্ত্রিক সর্বহারার বিশ্বচেতনাই তাকে বাস্তববাদে উজ্জীবিত করেছে। সুকান্ত বিশ্বাস করতেন ব্যক্তিস্বাতন্ত্রকে ছাপিয়ে শােষিত মানুষের জয়লাভ-ই সর্বমানবের বাঁচার উপায়। আজকের কবিতা শ্রেণি সংগ্রামকেই উদ্বুদ্ধ করবে এটা স্বাভাবিক। কেননা শ্রেণি-শােষণে পঙ্গু সমাজের পরিবর্তন সাধিত হতে পারে একমাত্র তাদেরই সংগ্রামে। সুকান্তও তা-ই তাঁর কবিতাকে করে তুললেন সহজ সরল। সমালােচক অশােক ভট্টাচার্য সুকান্তকে তাই ‘সমাজতান্ত্রিক বাস্তববাদী’ কবি হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। (‘সুকান্ত প্রসঙ্গ’ – পৃষ্ঠা ৭৮)

 

সমালােচকের মতে, একজন সমাজতান্ত্রিক বাস্তববাদী কবির মতােই সুকান্তও জনগনের থেকে এক ধাপ এগিয়ে ছিলেন। জনগনকে তাই তিনি তাড়না না করে আহ্বান করেছেন –
“কতক্ষণ ভুলে থাকবে পেটের ক্ষুধা আর গলার। শিকলকে ? /কতক্ষণ নাড়তে থাকবে লেজ? /তার চেয়ে পােষমানাকে অস্বীকার করাে, অস্বীকার করাে বশ্যতাকে। চলাে শুকনাে হাড়ের বদলে।
সন্ধান করি তাজা রক্তের, তৈরি হােক লাল আগুনে ঝলসানাে আমাদের খাদ্য।”
(‘১লা মে-র কবিতা’ ৪৬ ‘/ ঘুমনেই)
শুধু তাই নয় আঠারাের এক যৌবনী শক্তি নিয়ে তিনি সকলকে আহ্বান জানান যাবতীয় বিরুদ্ধতা উপেক্ষা করে , ভয়ঙ্কর তুফান তুলে, রক্তের বদলে প্রতিষ্ঠা করতে এক শােষণমুক্ত সমাজ –
“বেজে উঠল কি সময়ের ঘড়ি ?
এসো তবে আজ বিদ্রোহ করি,
আমরা সবাই যে যার প্রহরী
উঠুক ডাক।
……..
দেখব, ওপরে আজো আছে কারা,
খসাব আঘাতে আকাশের তারা,
সারা দুনিয়াকে দেব শেষ নাড়া,
ছড়াব ধান।
জানি রক্তের পেছনে ডাকবে সুখের বান॥”
(‘বিদ্রোহের গান ‘/ ঘুম নেই)
সুকান্তর প্রত্যক্ষ তিক্ত অভিজ্ঞতা কখনাে তাঁর স্বপ্নকে ভেঙে দেয়নি। দীর্ঘায়ু জীবনের হতাশা ক্লান্তি তাকে জীর্ণ করে তােলেনি সত্য। তবে তাকে দেখা গেছে কখনাে কাতর, কখনাে দুর্জয়, কখনাে বিষন্ন হতে। রােমান্টিক প্রেমকল্পনা বয়সের ধর্মেই তারুন্যকে দোলাচল করে; কিন্তু সুকান্তর কাছে কঠোর বাস্তবের হাতছানিতে দেশও হয়ে উঠেছে প্রিয়তমা – “তােমাকে ফেলে এসেছি দারিদ্রের মধ্যে,/
ছুঁড়ে দিয়েছি দুর্ভিক্ষের আগুনে,/
…….. ……
তবু, একটি হৃদয় নেচে উঠবে আমার আবির্ভাবে
সে তােমার হৃদয়।” (‘প্রিয়তমাসু’ / ঘুম নেই)
 

‘পূর্বাভাস’, ‘ছাড়পত্র’, ‘ঘুমনেই’, মিঠেকড়া, ‘অভিযান’ ও ‘গীতিগুচ্ছের’ প্রতিটি কবিতাই প্রায় বাস্তবলব্ধ অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক চেতনা অথচ নিজস্বতায় সমৃদ্ধ গভীর মানবতাবােধের উপর প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। ‘সিগারেট’, ‘সিঁড়ি’, ‘দেশলাই কাঠি’, ‘কলম’ প্রভৃতি শােষিত নিপীড়িত মানুষের প্রতিনিধি হয়ে উঠেছে তাই তাঁর কবিতায়। পরিশেষে বলা যায়, সমকালিন দুর্ভিক্ষ,সমাজ রাজনীতি যেমন সুকান্তর কবিসত্তাকে নির্মাণ করেছে, তেমনি তাঁর মধ্যে তারুণ্য, মমত্ববােধ , সর্বোপরি এক কবিত্বশক্তিকে ভাষা দান করেছে – তা সহজেই উপলব্ধ। যুগকে অতিক্রম করার বাসনা সুকন্তর ছিল না , ছিল নতুন যুগের সন্ধান , যেখানে ঘটবে শোষণমুক্তি । আজকের রাজনৈতিক ভাবনায় উন্মত্ত আমজনতার কাছে , কিংবা সারাবিশ্বে কোভিডি-১৯ মহামারীর ভয়াবহতা দেখে আজকের কিশোর কবি সুকান্ত কী বার্তা উপস্থাপন করতেন খুব জানতে ইচ্ছে করে।তবে
আমার কাছে সুকন্তর এই কথাটি চির প্রাসঙ্গিক মনে হয় , যা আজো আমাদের অঙ্গীকারবদ্ধ হতে উদ্বুদ্ধ করতে পারে—
“যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ, প্রাণপণে পৃথিবীর সরাব জঞ্জাল।” (‘ছাড়পত্র’/ নাম কবিতা)

তথ্যসূত্র:-
১। সুকান্ত প্রসঙ্গ (অশোক ভট্টাচার্য সম্পাদিত)
২। সুকান্ত সমগ্র
৩। আকাল( সুকান্ত ভট্টাচার্য সম্পাদিত)
৪। সুকান্তের জীবন ও কাব্য – ড. সরোজমোহন মিত্র
৫। উইকিপিডিয়া
৬। বিকাশপিডিয়া

#sadhgurubanglabiography #SadhguruQuotes #SadhguruBangla Sadhguru Jaggi Vasudev অসাধারণ কিছু বাণী - বাণী চিরন্তনী | সদগুরু জাগ্গি বাসুদেব

 #sadhgurubanglabiography #SadhguruQuotes #SadhguruBangla

Sadhguru Jaggi Vasudev অসাধারণ কিছু বাণী - বাণী চিরন্তনী | সদগুরু জাগ্গি বাসুদেব

#সদগুরুজাগ্গিবাসুদেব #উক্তি #Quotes সদগুরু জাগ্গি বাসুদেব || Sadhguru Jaggi Vasudev অমর বাণী 8 #বাণী #উক্তি #words সদগুরু জাগ্গি বাসুদেব || Sadhguru Jaggi Vasudev এর 20 টি উক্তি 6 #SadhguruJaggiVasudev #MotivationalQuote #words সদগুরু জাগ্গি বাসুদেব || Sadhguru Jaggi Vasudev কালজয়ী বাণী 4 #SadhguruQuotes #SadhguruBangla #সদগুরুজাগ্গিবাসুদেব সদগুরু জাগ্গি বাসুদেব || Sadhguru Jaggi Vasudev উক্তি যা আপনার জীবন পরিবর্তন করে দিতে পারে #সদগুরুজাগ্গিবাসুদেব Sadhguru Jaggi Vasudev words that can change your life || Bangla Motivational Quote 2

Monday, May 24, 2021

সদগুরু জাগ্গি বাসুদেব জীবনী , Biography of Sadhguru in Bangla জীবনী সদগুরু জাগ্গি বাসুদেব

 


একজন ভারতীয় যোগী, অতীন্দ্রিযবাদী এবং লেখক। তিনি ইশা ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন। এটি একটি অলাভজনক সংস্থা যা সারা বিশ্বে যোগ প্রোগ্রাম করে।এছাড়া এটি সামাজিক প্রচারশিক্ষা এবং পরিবেশগত উদ্যোগে জড়িত। তাঁর বই “স্বাস্থ্য”,”ধর্ম, আধ্যাত্মিকতা এবং বিশ্বাস”,এবং “পরামর্শ, কিভাবে-কী এবং বিবিধ” ইত্যাদি একাধিক বিভাগে নিউইয়র্ক টাইমস শ্রেষ্ঠ বিক্রেতা তালিকাতে ছিল। তিনি জাতিসংঘের সদর দপ্তর, বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম, অস্ট্রেলিয়ান লিডারশিপ রিট্রিট, ভারতীয় অর্থনৈতিক সামিট এবং টেড এ একজন প্রধান স্পিকার হয়েছেন। তিনি অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি, স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি, হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি, ইয়েল ইউনিভার্সিটি, হোয়ার্টন ইউনিভার্সিটি, লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্স এবং ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতেও বক্তৃতা করেছেন। তিনি গুগল এ ও স্পিকার ছিলেন। আধ্যাত্মিকতার ক্ষেত্রে তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৭ সালে ভারত সরকার পদ্মবিভূষণ বেসামরিক পুরস্কার প্রদান করে। সদগুরু জাগ্গি বাসুদেব জীবনী , 
ব্যক্তিগত জীবন নিগূঢ় অধ্যাত্মভাবনায় দাম্পত্য সঙ্গী বিজয় কুমারী (বিজ্জী‌)  কন্যা সন্তান আছে । তার বাবা ভারতীয় রেলওয়ের একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞ ছিল ।যার জন্য পরিবারকে ঘন ঘন জায়গা বদলাতে হত। ১০ বছর বয়সে তিনি মল্লাদিহাল্লি শ্রী রাঘভেন্দ্র স্বামীজিগের সাথে যোগাযোগ করেন। যিনি তাকে সাধারণ যোগব্যায়াম আসনের একটি আনুষঙ্গিক অংশ শিখিয়েছিলেন, যা তিনি নিয়মিতভাবে পালন করেছিলেন। তিনি বলেন যে “একদিনের বিরতি ব্যতিরেকে ,এই সহজ যোগব্যায়াম যা আমাকে শেখানো হয়েছিল এবং যার ফলে পরে গভীর অভিজ্ঞতা লাভ করেছি। ১৯৭৩ সালে ডেমনোসট্রেশন স্কুল অ্যান্ড মহাজন প্রাক বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, মহীশূর এ পড়েন। তার স্কুলের পর তিনি স্নাতক মহীশূর বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক ডিগ্রী পান। কলেজের বছরগুলিতে তিনি ভ্রমণ এবং মোটরসাইকেলে আগ্রহী ছিলেন। 

আধ্যাত্মিক জীবন ১৯৮২ সালের ২৫ সেপ্টেম্বরতিনি চামুণ্ড‌ী পাহাড়ে উঠেন এবং একটি শিলাতে বসেছিলেন, যেখানে তিনি আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা লাভ করেছিলেন। তার অভিজ্ঞতা বর্ণনা নিম্নরূপ: আমার জীবনের সেই মুহুর্ত পর্যন্ত আমি সবসময় নিজের কথা,অন্যের কথা ও অন্য কিছুর ব্যাপারে ভাবতাম । কিন্তু তখন প্রথমবারের মতো আমি জানতাম না যে কোনটা আমি আর কোনটা নই। হঠাৎ আমি সব জায়গায় নিজেকে অনুভব করলাম। যে শিলায় আমি বসে ছিলাম,যে বাতাসে আমি শ্বাস নিচ্ছিলাম, আমার চারপাশে বায়ুমণ্ডল সবকিছুতেই আমি ছড়িয়ে পড়েছিলাম । যা হয়ত কৌতুক বা পাগলামির মত শোনাচ্ছে। আমার মনে হয় এটি দশ থেকে পনের মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী ছিল, কিন্তু যখন আমার স্বাভাবিক চেতনা ফিরে আসে তখন প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা আমি সেখানে বসে ছিলাম। সম্পূর্ণ সচেতন ছিলাম, চোখ খোলা ছিল। কিন্তু কিছু সময় পর সব ঠিক হয়ে গেল। এই অভিজ্ঞতার ছয় সপ্তাহ পরে, তিনি তার বন্ধুর কাছে তার ব্যবসা ছেড়ে চলে যান এবং তার রহস্যময় অভিজ্ঞতার অন্তর্দৃষ্টি অর্জনের প্রচেষ্টায় ব্যাপকভাবে ভ্রমণ করেন। প্রায় এক বছর ধ্যান ও ভ্রমণের পর তিনি যোগব্যায়ামে তার অভ্যন্তরীণ অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ১৯৮৩ সালে তিনি মহীশূরে সাতজন অংশগ্রহণকারী নিয়ে প্রথম যোগব্যায়াম ক্লাস পরিচালনা করেন।তিনি ইশা ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন।যা একটি অধর্মীয়, অলাভজনক সংস্থা রূপে স্বেচ্ছাসেবকদের দ্বারা চালিত। ১৯৯৬ সালে আশ্রম প্রতিষ্ঠার পর ভারতীয় হকি দলের জন্য তিনি কোর্সসহ ইশা যোগ কেন্দ্রে নিয়মিত যোগব্যায়াম প্রোগ্রাম পরিচালনা শুরু করেন। ১৯৯৭ সালে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ক্লাস পরিচালনা শুরু করেন । ২০০১ সালে তিনি তামিলনাড়ু কারাগারে জীবনকালের বন্দীদের জন্য যোগব্যায়াম ক্লাস পরিচালনা শুরু করেন। ২০১১ সাল থেকে তিনি একবারে ১০,০০০ এবং ১৫,০০০ জন অংশগ্রহণকারীদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে বৃহৎ পরিসরে অংশগ্রহণের অনুষ্ঠান পরিচালনা শুরু করেন। ইশা শব্দটির অর্থ “নিরাকার অমরাত্মা “। ইশা যোগের প্রধান প্রোগ্রাম ‘ইননার ইঞ্জিনিয়ারিং’, যা কিছু সহজ যোগব্যায়াম অনুশীলন এবং সম্ভাবি মহামুদ্রার সাথে পরিচিত করে। ২০০৫ সালের মার্চে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি, ম্যাকমিনভিলিতে ইশা ইনস্টিটিউট অফ ইননার-সায়েন্সেস (তৃতীয়) নির্মাণ শুরু হয় ।যা ৬ মাস পরে সম্পন্ন হয়। ২০১৩ সালের ২৩ জুন তিনি ইশা কেন্দ্রের “ধর্মের সার্বজনীনতার উপর আন্তঃধর্মীয় আলোচনা” শিরোনামের একটি বহু ধর্মীয় অধিবেশন পরিচালনা করেন। এতে বিভিন্ন ধর্মের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন এবং ধ্যানলিঙ্গের ১৪ তম বার্ষিকী উদযাপনের জন্য ও সবাই মিলিত হন।


Monday, March 1, 2021

ভা‌লো‌বে‌সে বি‌য়ে ক‌রে‌ছে খুলনা জেলার অমল মন্ডল‌কে। ইসলাম ধর্ম ছে‌ড়ে সনাতন ধর্ম গ্রহন ক‌রে‌ছে।

 নির্লজ্জ সমাজ ব‌্যাবস্থাঃ


======================
‌ঝিনাইদ‌হের শৈলকূপা উপ‌জেলার মিনা খাতুন, বর্তমান মিনা মন্ডল। ভা‌লো‌বে‌সে বি‌য়ে ক‌রে‌ছে খুলনা জেলার অমল মন্ডল‌কে। ইসলাম ধর্ম ছে‌ড়ে সনাতন ধর্ম গ্রহন ক‌রে‌ছে। আমা‌দের উ‌চিত তাকে সহ‌যো‌গিতা করা, আমা‌দের ধ‌র্মে তা‌কে স্বাগত জানা‌নো।
কিন্তু বাস্তবতায় ঘট‌লো তার বিপরীত চিত্র। গ্রা‌মের কর্তা ব‌্যা‌ক্তিরা নিয়ম বে‌ঁধে দি‌লো সমা‌জে উঠ‌তে গে‌লে গ্রা‌মের লোক‌দের খাওয়া‌তে হ‌বে। মিনা মন্ডল তার স্ব‌র্নের চেইন‌টি বন্ধক রে‌খে‌ছে আজ। সেই টাকা দি‌য়ে সমা‌জের লোক‌দের খাওয়া‌বে!
আসুন মিনা‌ ও অম‌লের পা‌শে দাঁড়াই।
কৌশলগত কার‌নে ও‌দের বিবাহ রে‌জি‌স্ট্রি বা ধর্ম প‌রিবর্তনের এ‌ফি‌ডে‌ভিট ক‌পি সামা‌জিক মাধ‌্যমে তু‌লে ধরলাম না।

Wednesday, February 26, 2020

বাংলার ইতিহাসে হরিচাঁদ ঠাকুর ও গুরুচাঁদ ঠাকুর ঠাকুরের আবদান



বাংলার ইতিহাসে হরিচাঁদ ঠাকুর ও গুরুচাঁদ ঠাকুর ঠাকুরের আবদান

প্রাচীন বাংলার এক বিখ্যাত ধর্মগুরু ,দার্শনিক , গৌতম বুদ্ধদেব ও শ্রী চৈতন্যদেবের যুগপৎ অবতার,অলৌকিক ক্ষমতাসম্পন্ন, জাতিভেদ বিরোধী, মনীষী, মহামানব, মহান গুরু,মতুয়াবাদ প্রতিষ্ঠাকারি, দলিত,নমঃ(শূদ্র)দের ত্রাণকর্তা, এক কিংবদন্তী ছিলেন শ্রীশ্রী হরিচাঁদ ঠাকুর গুরুচাঁদ ঠাকুর |

গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী থানার অন্তর্গত ওঢ়াকাঁন্দির সফলাডাঙ্গা গ্রামে প্রায় দুশো বছর আগে ১২১৮ বঙ্গাব্দের ফাল্গুন মাসে (১৮৪৬ সালের ১৩ মার্চ) শ্রীশ্রী হরিচাঁদ ঠাকুর জন্মগ্রহণ করেন। পিতা যশোবন্ত ঠাকুর ও মাতা অন্নপূর্ণা দেবী। যশোবন্ত নমঃশূদ্র সম্প্রদায়ের ছিলেন। বৈষ্ণবভক্ত হিসেবেও এলাকায় তিনি বেশ পরিচিত ছিলেন। হরিচাঁদ ঠাকুর জন্মেছিলেন এক মাহেন্দ্রক্ষণে। জন্মের সময় তাঁর শরীরে বত্রিশ রকমের লক্ষণ ছিল, যা হিন্দুশাস্ত্র অনুযায়ী অবতার পুরুষের বিশেষ লক্ষণ। এই লক্ষণগুলি গৌতম বুদ্ধের শরীরেও ছিল। অনেকেই মনে করেন হরিচাঁদ ঠাকুর আসলে বুদ্ধদেব ও শ্রী চৈতন্যদেবের যুগপৎ অবতার।

হরিচাঁদ ঠাকুর অত্যন্ত সাদামাটা জীবনযাপনে অভ্যস্ত ছিলেন। প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়ার সুযোগ পাননি।

প্রথম জীবনে হরিচাঁদ ঠাকুর মাঠে গরু চরাতেন।

অলৌকিক ক্ষমতাবলে তিনি ভক্তদের রোগ থেকে মুক্ত করাসহ বিভিন্ন কল্যাণসাধন করতেন। ধীরে ধীরে হরিচাঁদ ঠাকুরের ভক্তসংখ্যা বাড়তে থাকে। হরিভক্তদের মতুয়া বলা হয়।

মতুয়াদের ভক্তি ও হরিচাঁদ ঠাকুরের শক্তি এ দুয়ে মিলে ওড়াকান্দি ক্রমান্বয়ে দেশে দেশে পরিচিত হয়ে ওঠে। বর্তমানে ওড়াকান্দি একটি তীর্থধামে পরিণত হয়েছে।



পতিতজনের মুক্তির পন্থা দান করাকে হরিচাঁদ ঠাকুর তাঁর অবতার গ্রহণের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। অন্যদিকে বলা যায় নিম্নবর্গীয় জনগোষ্ঠীর আত্মমর্যাদা বৃদ্ধি এবং তাদের আর্থ-সামাজিক মুক্তির বিষয়টি তাঁকে বিশেষভাবে প্রভাবিত করেছিলো।

ভক্তদের প্রতি তাঁর প্রধান উপদেশ ছিল, ‘হাতে কাজ’ মুখে নাম ।

দূরদৃষ্টিসম্পন্ন এই মনীষী মাত্র ৬৬ বছর বয়সে ১৮৭৭ ,২৩ ফাল্গুন ইহলোক ত্যাগ করেন।

মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁর ঠাকুরবাড়ি ও মতুয়া ধাম বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ তীর্থ কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। ভারতের ঠাকুরনগর ও গোপালগঞ্জ ওড়াকান্দিতে এ উপলক্ষে লাল নিশান উড়িয়ে, জয়ডাঙ্কা বাজিয়ে, সিঙ্গা ফুঁ দিয়ে হিন্দু-মুসলমান-খ্রিষ্টান-বৌদ্ধ ভক্তরা যোগ দেয়। হরিচাঁদ ঠাকুর মানবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।



শ্রীশ্রী গুরুচাঁদ ঠাকুর

পিতা ছিলেন মতুয়া আন্দোলনের সূচনাকারী হরিচাঁদ ঠাকুর। সামাজিক বৈষম্যের কারনে গুরুচাঁদ কোনো বিদ্যালয়ে ভর্তি না হতে পারলে পিতা হরিচাঁদ তাকে মাদ্রাসায় ভর্তি করেন ও পরামর্শ দেন ভবিষ্যতে শিক্ষার উন্নতি করার। পিতার মৃত্যুর পর এই সামাজিক আন্দোলনের দায়িত্ব নেন গুরুচাঁদ।

অনুন্নত শ্রেনীর শিক্ষাবিস্তার ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়ননের ওপর বিশেষভাবে জোর দেন গুরুচাঁদ ঠাকুর। সামাজিক ও বর্ণহিন্দুর বাধা অতিক্রম করে ১৮৮০ সালে ওড়িয়াকান্দিতে প্রথম বিদ্যালয় স্থাপন করেন। তার উৎসাহে ১৮ বছরের মধ্যে এটি প্রাথমিক স্তর হতে উচ্চ বিদ্যালয়ে উন্নিত হয়। অস্পৃশ্যতা দুরীকরণ ও শিক্ষা বিস্তারের ক্ষেত্রে গণ আন্দোলনের সূচনা করেছিলেন তিনি। ৯০ বছরের জীবনে ১৮১২ টি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে।[১] ১৮৮১ সালে তার উদ্যোগে ও সভাপতিত্বে খুলনার দত্তডাঙায় প্রথম নমঃশূদ্র মহা সম্মেলন হয়। চন্ডাল জাতিকে নমশুদ্র জাতিতে উত্তরনের আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। তার চেষ্টায় একটি প্রতিনিধিদল ১৯০৭ সালে বাংলা ও আসাম গভর্নর জেনারেলের কাছে এই মর্মে প্রতিবেদন পেশ করেন। যার সাফল্যস্বরূপ ১৯১১ সালের নমশূদ্র নামটি পরিচিতি লাভ করেছিল। তার মৃত্যুর পর এই আন্দোলনের দায়িত্ব নেন রাজনীতিবিদ ও সাংসদ প্রমথরঞ্জন ঠাকুর। দেশবিভাগের পর মতুয়া মহাসঙ্ঘের প্রধান কেন্দ্র গড়ে ওঠে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের উত্তর চব্বিশ পরগণা জেলার ঠাকুরনগরে।


আর গুরুচাঁদ শুধু পিছিয়েপড়া হিন্দু জাতির জন্য কাজ করেননি। তিনি মূলত মানুষের জন্য কাজ করে গেছেন। তিনি সবাইকে মানুষ হিসেবে দেখতেন। তার কাছে কোনো জাতিভেদ ছিল না। তাই তাঁর পরমপ্রিয় ভক্ত হয়েছিলেন খুলনার তিনকড়ি মিঞা। তার নাতি জালালউদ্দিন বর্তমানে মতুয়া দলপতি। বিদেশি দম্পতি ডা. এস এস মিড তাকে ডেকেছিলেন ধর্মপিতা। ধর্মযোগী হরিচাঁদ ঠাকুর মতুয়াধর্মের মাধ্যমে অবহেলিতদের সঙ্ঘবদ্ধ করেছিলেন।

দলিত সমাজের সাধারণ একজন মানুষ নিজের জাতির কথা চিন্তা করে নিজের উদ্যোগে স্কুল প্রতিষ্ঠা করে এক নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। এ স্কুলেই প্রথম তিনি ছাত্রবৃত্তি চালু করেন।

তাই তিনি খ্রিস্টান মিশনারি ড. মিডের সহায়তা নেন এবং সরকারি সাহায্যে ১৯০৮ সালে ওড়াকান্দির মিডল ইংলিশ স্কুলকে হাই ইংলিশ স্কুলে পরিণত করেন। ১৮৮১ সালে খুলনার দত্তডাঙ্গায় এক নমঃশূদ্র মহাসম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ঈশ্বর গায়েনের বাড়িতে।


সেখানে দলিত সমাজে শিক্ষা প্রসারের প্রয়োজনীয়তা ও উপায় সম্বন্ধে তিনি শতাব্দীর সেরা ভাষণ দেন। এর পর থেকেই তিনি একের পর এক স্কুল স্থাপন করতে থাকেন।

১৯৩২ সালে গুরুচাঁদ ঠাকুর ‘শ্রীশ্রীহরি-গুরু মিশন’ স্থাপন করেন। এই মিশনের মাধ্যমে তিনি গ্রামে গ্রামে রাস্তাঘাট, পাঠশালা, স্কুল ও ছাত্রাবাস স্থাপনের ব্যবস্থা করেন।

এছাড়া মিসেস মিডের সহযোগিতায় ১৯০৮ সালেই মেয়েদের জন্য একটি শিক্ষাকেন্দ্র গড়ে তোলা হয়। প্রসূতি মা ও শিশুসেবার জন্য নির্মিত হয় মাতৃমঙ্গল কেন্দ্র, যা আজও ওড়াকান্দিতে কালের সাক্ষী হয়ে আছে।

আজ থেকে প্রায় ২০০ বছর আগে এই মনীষী যে আধুনিক চিন্তা করেছিলেন, আজও তা অব্যাহত রয়েছে মানবসমাজে।

১৯১৯ সালেই নতুন ভারত শাসন আইন প্রবর্তিত হয় এবং তাতে অস্পৃশ্যদের রাজনৈতিক অধিকার মেনে নেওয়া হয়। এরই ফলে বাংলার বিধান পরিষদে সর্বপ্রথম প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পান গুরুচাদের অনুসারী ভীষ্মদেব দাস। ১৯২১ সালে বাংলার বিধান পরিষদে ১৩৯ জন সদস্যের মধ্যে মাত্র দুজন ছিলেন অস্পৃশ্য সমাজের।

১৮৫৮ সালে কৃষক বিদ্র্রোহ এবং ১৮৫৯-৬০ সালে নিম্নশ্রেণীর কৃষকদের মধ্যে নীল বিদ্রোহ হয়। এ সময় শক্তিশালী জমিদাররা কৃষকদের ওপর অকথ্য অত্যাচার চালাচ্ছিল। এই বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেন হরিচাঁদ ঠাকুর। ১৮৭২-১৮৭৬ সাল পর্যন্ত পূর্ববঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চলে জমিদার ও তাদের অনুচরদের সংঘবদ্ধ কৃষকেরা আক্রমণ করে। আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন গুরুচাঁদ ঠাকুর। গুরুচাঁদ ঠাকুর ছিলেন মূলত দলিত পিছিয়ে পড়া সমাজের পথিকৃৎ। তিনি এই পিছিয়ে পড়া সমাজকে শিক্ষার আলো জ্বেলে অগ্রগামী করেছিলেন। তাঁর অক্লান্ত প্রচেষ্টায় তিনি শুধু গোপালগঞ্জ নয়, ভারতবর্ষেও বহু পিছিয়ে পড়া মানুষের মধ্যে শিক্ষার আলো জ্বেলেছেন। এসব দলিত মানুষকে মানুষ হিসেবে ভাবতে শিখিয়েছেন। কিন্তু ২০০ বছর পরে এসে আমরা দেখছি গুরুচাঁদ ঠাকুরের স্বপ্ন এখনো পূরণ হয়নি। এখনো নিম্নবর্ণের জেলা হিসেবে কাশিয়ানীতে উন্নতির ছোঁয়া পড়েনি।

১৯৩৮ সালে নিখিল ভারত কংগ্রেস কমিটির সভাপতি হিসেবে নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু গুরুচাঁদ ঠাকুরকে একজন মহামানব হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। মহাত্মা গান্ধী গুরুচাঁদ ঠাকুরকে বলেছিলেন মহান গুরু। প্রতি বছর চৈত্র মাসের মধুকৃষ্ণা ত্রয়োদশীতে হরিচাঁদ ঠাকুরের জন্মতিথিতে তিনি দিন বরুনীমেলা অনুষ্ঠিত হয়। ভারতের ঠাকুরনগর ও ওড়াকান্দিতে এ উপলক্ষে লাল নিশান উড়িয়ে, জয়ডাঙ্কা বাজিয়ে, সিঙ্গা ফুঁ দিয়ে হিন্দু-মুসলমান-খ্রিষ্টান-বৌদ্ধ ভক্তরা যোগ দেয়। গুরুচাঁদ ঠাকুর মানবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।



হরিচাঁদ ঠাকুরের সমগ্র জীব ও মানব জাতির উদ্দেশ্যে বলা বাণী


জীবে দয়া নামে রুচি, মানুষেতে নিষ্ঠা।
ইহা ছাড়া আর যত সব ক্রিয়া ভ্রষ্টা।।

সব ধর্মের উর্ধে হচ্ছে মানব ধর্ম।

সেটাই সবার সেরা ধর্ম।


নীচ হয়ে করিব যে নীচের উদ্ধার।

অতি নিম্নে না নামিলে কিসের অবতার।।



করিবে গৃহস্থ ধর্ম লয়ে নিজ নারী।

“পরনারী মাতৃতুল্য মিথ্যা নাহি কবে।
পর দুঃখে দুঃখী সচ্চরিত্র সদা রবে।।



“হাতে কাম, মুখে নাম।”

যত যত তীর্থ আছে অবনী ভিতরে।

“যে যাহারে ভক্তি করে সে তার ঈশ্বর।”


“বিশ্ব ভরে এই নীতি দেখি পরস্পর।
যে যাহারে উদ্ধার করে সে তার ঈশ্বর।।”

“ঠাকুর কহেন বাছা ধর্ম কর্ম সার।
সর্ব ধর্ম হ’তে শ্রেষ্ঠ পর উপকার।।”


“অঙ্গ ধৌত বস্ত্র ধৌত ছাপা জপমালা।
বহিরঙ্গে বাহ্য ক্রিয়া সব ধুলা খেলা।।
যত দিন নাহি ঘুচে চিত্ত অন্ধকার।

“খাও বা না খাও তা’তে কোন দুঃখ নাই।
ছেলে পিলে শিক্ষা দেও এই আমি চাই”।।

ছেলে মেয়েকে দিতে শিক্ষা
প্রয়োজনে করিবে ভিক্ষা।


তাই বলিভাই মুক্তি যদি চাই
বিদ্যান হইতে হবে।
পেলে বিধ্যাধন দুঃখ নিবারণ
চির সুখি হবে ভবে।।


শিক্ষা আন্দোলন যবে প্রভু করে দেশে।
ভক্‌ত সুজন যত তার কাছে আসে।।


নমঃশূদ্র তেলী মালী আর কুম্ভকার।
কপালী মাহিষ্য দাস চামার কামার।।
পোদ আসে তাতী আসে আসে মালাকার।
কতই মুসলমান ঠিক নাহি তার।।


সাবাকে ডাকিয়া প্রভু বলে এই বাণী।
“শুন সবে ভক্তগণ আমি যাহা জানি।।
নমঃশূদ্রকুলে জন্ম হয়েছে আমার।
তবু বলি আমি নাহি নমঃর একার।।
দলিত পীড়িত যারা দুঃখে কাটে কাল।
ছুঁস্‌নে ছুঁস্‌নে বলে যত জল-চল।।


শিক্ষা-হারা দীক্ষা-হারা ঘরে নাহি ধন।
এই সবে জানি আমি আপনার জন।।” -

নারী পুরুষ পাবে সম অধিকার।।


সমাজে পুরুষ পাবে যেই অধিকার।
নারীও পাইবে তাহা করিলে বিচার।।


“শুন কন্যা, গুণে ধন্যা, আমার বচন।
জাতি-ভাগ মোর ঠাঁই পাবে না কখন।।
নরাকারে ভূমন্ডলে যত জন আছে।
‘এক জাতি’ বলে মান্য পাবে মোর কাছে।।


আমার পিতার ভক্ত আছে যত জন।
এক জাতি বলে তারা হয়েছে গণ।।
লোকাচারে তার কেহ কায়স্থ ব্রাহ্মণ।
‘মতুয়ার’ মধ্যে তাহা নাহি নিরূপণ।।

নমঃশূদ্র, তেলী মালী, ব্রাহ্মণ কায়স্থ।
ইস্‌লাম, বৈদ্য জাতি-রোগে সিদ্ধ-হস্ত।।
মতুয়া সকলে এক, জাতি-ভেদ নাই।
বিশেষতঃ কন্যা হ’লে নাহিক বালাই।।

কুকুরের উচ্ছিষ্ট প্রসাদ পেলেও খাই।
বেদ বিধি শৌচাচার নাহি মানি তাই।।

কোথায় ব্রাহ্মণ দেখ, কোথায় বৈষ্ণব।
স্বার্থ বসে অর্থ লোভী যত ভন্ড সব।।


“ব্রাহ্মণ রচিত যত অভিনব গ্রন্থ।
‘ব্রাহ্মণ প্রধান’ মার্কা বিজ্ঞাপন যন্ত্র।।



“যে যাহারে ভক্তি করে সে তার ঈশ্বর।
ভক্তিযোগে সেই তার স্বয়ং অবতার।।”


“মানবকুলে আসিয়ে, যশোমন্ত সুত হ’য়ে,
জন্ম নিল সফলানগরী।
প্রচারিল গূঢ়গম্য, সূক্ষ্ম সনাতন ধর্ম,
জানাইল এ জগত ভরি।।”


“বহুত দ্বাপর কলি আসে আর যায়।
স্বয়ং এর অবতার তাতে নাহি হয়।।
অষ্টাবিংশ মন্বন্তর শেষ যেই কলি।
অবতীর্ণ ভক্তবৃন্দ লইয়া সকলি।।”

“আর এক জন্ম বাকী রহিল প্রভুর।
এই সেই অবতার শ্রীহরি ঠাকুর।।”

“কিসের রসিক ধর্ম কিসের বাউল।
ধর্ম যজে নৈষ্ঠিকেতে অটল আউল।।

সর্ব ধর্ম লঙ্ঘি এবে করিলেন স্থুল।
শুদ্ধ মানুষেতে আর্তি এই হয় মূল।।
জীবে দয়া নামে রুচি মানুষেতে নিষ্ঠা।



ইহা ছাড়া আর যত সব ক্রিয়া ভ্রষ্টা।।
এই সুক্ষ্ম সনাতন ধর্ম জানাইতে।
জনম লভিলা যশোমন্তের গৃহেতে।।”

..
“রামকান্ত বলে মাগো বলি যে তোমারে।
বাসুদেব জন্মিবেন তোমার উদরে।।”


“কৃষ্ণ প্রেম সুনির্মল উচ্চেতে না র’বে।
নিম্ন খাদে থাকে বারি দেখ মনে ভেবে।।”



“এই মত দেখ নানা কারণ বশতঃ।
গোলক বিহারী হ’ল যশোমন্ত সুত।।”



ধন্য অন্নপূর্ণা হেন পুত্র পেল কোলে।
দ্বাপরে যশোদা যিনি ছিলেন গোকুলে।।
দ্বাপরে ছিলেন নন্দ যশোদার কান্ত।
যশোমতি কান্ত এবে হ’ল যশোমন্ত।।


ধরা দ্রোণ দুইজন তস্য পূর্ব্বে ছিল।
নন্দ যশোমতি তেই দ্বাপরে হইল।।
কলিকালে জগন্নাথ মিশ্র শচীরাণী।
এবে যশোমন্ত অন্নপূর্ণা ঠাকুরাণী।।”


আমার মনের কথা কেমনে জানিলে।।
আমি যে এনেছি বিষ গোপন করিয়া।
কেহ নাহি জানে আনি কাপড়ে বাঁধিয়া।।
গোপনে রেখেছি কিসে পাইল সন্ধান।
অন্তর্যামী ইনিত স্বয়ং ভগবান।।

মহাপ্রভু ডেকে বলে সেই হীরামনে।
রামাবতারের কথা পড়ে তোর মনে।।
লংকাদগ্ধ বনভঙ্গ সাগর লঙ্ঘন।
রাজপুত্র বনবাসী নারীর কারণ।।

ভেবে দেখ মনে তাহা হয় কিনা হয়।
যে সকল কার্য্য বাছা করিলি ত্রেতায়।।
প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ বিরূপাক্ষ সমুদ্ভব।
দ্বিতীয় মহান রুদ্র অযোনী সম্ভব।।

তৃতীয়ে শ্রীহনুমান রামনাম অঙ্গে।
চতুর্থে মুরালীগুপ্ত শচীসুত সঙ্গে।।
পঞ্চমে তুলসীদাস ষষ্ঠে হীরামন।
আদি হি, অন্ত ন, মধ্যে রাম নারায়ণ।।


হনুমান দ্বীনকার এ কোন কারণ।
হীন হ’য়ে হীন মধ্যে শ্রীরাম স্থাপন।।

মহাপ্রভুর শ্রীরাম মূর্তি ধারণ প্রবন্ধে,
অভিনব রূপ নব দূর্বাদল শ্যাম।
দেখিতে দেখিতে হ’ল দাশরথি রাম।।

আর যত লোক ঠাকুরের ঠাই ছিল।
সবে দেখে প্রভু হরিচাঁদ দাঁড়াইল।।
হীরামন দেখিল সাক্ষাৎ সেই রাম।
শিরে জটা বাকলাটা সুন্দর সুঠাম।।


একা হীরামন দেখে রাম দয়াময়।
সে রূপের আভা মাত্র দেখে মৃত্যুঞ্জয়।।
বামপার্শ্বে কুক্ষিমধ্যে দেখে ধনুর্গুণ।
কটিতে বাকল শিরে জটা কক্ষে তুণ।।


বনবাসে যেই বেশে যান ঋষ্যমুখে।
তেম্নি অপরূপ রূপ হীরামন দেখে।।
পুনরায় রামরূপ হীরামন দেখতে চাইলে,
হীরামন বলে কোথা পূর্ণব্রহ্ম রাম।


হীরামন বলে প্রভু মোরে দেখা দাও।
আরবার রামরূপ আমারে দেখাও।।
প্রভু কহে কহি তোরে ওরে হীরামন।
যদি কেহ কারু কিছু করে দরশন।।
অস্মভব দেখে জ্ঞানী প্রকাশ না করে।
শুনিলে সন্দেহ হয় লোকের অন্তরে।।


তব শ্রীমুখের আজ্ঞা যদি পায় হীরে।
ব্রহ্মাণ্ড ডুবা’তে পারে গোষ্পদের নীরে।।
ত্রেতাযুগে তব শ্রীমুখের আজ্ঞা পাই।
আঠার বর্ষের পথ এক লম্ফে যাই।।
আনিনু গন্ধমাদন তব কৃপাগুণে।


হীরামন বলে আজ্ঞা কর শ্রীনিবাস।
যবনেরে সবংশেতে করিব বিনাশ।।

শুনে দশরথ কয় বিশ্বাস না হয়।
কোন হরি ওঢ়াকাঁদি হইল উদয়।।


কিন্তু দেখার পর হরিঠাকুরের বাণী,
কি জানি কি ওঢ়াকাঁদি না হয় প্রত্যয়।
কোথাকার হরি এল ওঢ়াকাঁদি গায়।।
নদীয়াতে গৌররূপে গোলোক-বল্লভ।
ওঢ়াকাঁদি জন্ম তার কিসে অসম্ভব।।

মীন হৈনু, কূর্ম হৈনু, বরাহ নৃসিংহ।
তা হ’তে কি হীন হৈনু ল’য়ে নরদেহ।।
মাতাকে কড়ার দিনু নদীয়া ভুবনে।
করিব মা শেষ লীলা ঐশান্য কোণে।।
এই সেই লীলা এই সেই অবতার।
ইহার উপরে পূর্ণ লীলা নাহি আর।।


প্রভু বলে শেষ লীলা বড় চমৎকার।
লীলাকারী যেই তার নিজে বোঝা ভার।।

যা থাকে কপালে হ’বে হয় হো’ক ক্লেশ।
কোথা হ’তে স্বয়ং এল কলি অবশেষ।।


আর দেখা হওয়ার পর,
তুমি কৃষ্ণ তুমি বিষ্ণু তুমি হর হরি।

সে নারী শ্রীক্ষেত্রে গেল জগন্নাথে আর্তি।
রথের উপরে দেখে হরিচাঁদ মূর্তি।।


নারী বলে কেন আমি আসি এতদূর।
ওঢ়াকাঁদি আছ যদি দয়াল ঠাকুর।।
এই সেই সেই এই ভিন্নভেদ নাই।


প্রভু বলে ওঢ়াকাঁদি আমি হরিদাস।
জগবন্ধু বলে তোর হ’ত কি বিশ্বাস।।
তেঁই তোরে পাঠাইনু শ্রীক্ষেত্র উৎকলে।


ঘৃণা মহাপাপ স্পর্শে পালের হৃদয়।

সেই পাপে অগ্নিতাপ হীনতেজ হয়।।
ব্রহ্মতেজ বিষ্ণুতেজ অগ্নিতেজ জ্বলে।
সব তেজ নষ্ট হয় আমাকে নিন্দিলে।।


গুরুকে না চিনে বেটা করে গুরুগিরি।
অহংকারী গুরুকার্যে নহে অধিকারী।।


প্রভু বলে সেই আমি ভাব যদি তাই।

সেই আমি যদি তোরা সেই পঞ্চ ভাই।।



এই পঞ্চ ভাই তোরা দ্বাপর লীলায়।
শেষে ভবানন্দ পুত্র আমি নদীয়ায়।।
যুগে যুগে ভক্ত তোরা হইলি আমার।
এবে তোরা পঞ্চ পুত্র শঙ্কর বালার।।

আমাদের এই মাতা সেই মাতা হ’লে।
দেখিয়া চিনিত মোরে করিতেন কোলে।।
প্রভু রাম পূজিলেন দুঃখের সময়।
মাল্যবাণ পর্বতে মা হ’লেন উদয়।।

সেই শ্রীগৌরাঙ্গ মোর এল ওঢ়াকাঁদি।
নমঃশূদ্র কুলে অবতার গুণনিধি।।
যশোমন্ত রূপে জীবে ভক্তি শিখাইল।
জয় হরিচাঁদ জয় সবে মিলে বল।।

মহাপ্রভু বলে আমি ছিনু নদীয়ায়।
চেন কিনা চেন আমি শচীর তনয়।।


তুমি দিগ্বিজয় ছিলে কেশব কাশ্মীরী।
আমি সেই বালক নিমাই গৌর হরি।।

সেই তুমি, তুমি সেই, আমি দিগ্বিজয়।
তুমি প্রভু সর্বেশ্বর শচীর তনয়।।

অদোষ দরশি তুমি বিষ্ণুপ্রিয়া কান্ত।

পরিধান পীতবাস যেন কাল শশী।
ত্রিভঙ্গ ভঙ্গিমা বাঁকা হাতে আছে বাঁশী।।
বনমালা গলে দোলে বক্ষদেশ ঢাকা।
চরণে চরণ দিয়ে হ’য়ে আছে বাঁকা।

মস্তকেতে শিখি পাখা শ্রীপদে নুপুর।
এইমত রূপে আছে শ্রীহরি ঠাকুর।।

অপার মহিমা প্রভু পূর্ণ অবতার।
প্রশস্থ গার্হস্থ্য ধর্ম এল শিখাবার।।
অবনীতে অবতীর্ণ ভব কর্ণধার।
করিলেন শেষ লীলা অতি চমৎকার।।

তবে একদিন আমি কুরুক্ষেত্র রণে।।


অর্জুনের সারথি ছিলাম যে সময়।
হনু বলে প্রভু আর সহ্য নাহি হয়।।
যদি আজ্ঞা করিতেন প্রভু ভগবান।
একটানে ফেলাতাম কর্ণের রথ খান।।


প্রভুকে দেখিয়া বলে চিনেছি তোমায়।
ফাঁকি দিয়া লুকাইয়া এসেছ হেথায়।।
শ্রীধাম উৎকলে আছ দারুব্রহ্ম মূর্তি।
তাহাতে তোমাতে এক পরমার্থ আর্তি।।
তুমি তিনি অভেদ আমরা নহে চিনি।
আদেশে জানা’লে প্রভু তাই মোরা জানি।।

পাণ্ডা কহে তুমি হও নন্দের নন্দন।
ত্রেতাযুগে করেছিলে রাবণ নিধন।।
এবে ওঢ়াকাঁদি এসে পাতকী তরা’লে।
জগন্নাথ আবেশেতে জনম লভিলে।।


কৃষ্ণ আবেশেতে প্রভু কৈল গোষ্ঠলীলে।
শ্রীগৌরাঙ্গ আবেশেতে হরিনাম দিলে।।
তিন শক্তি আবির্ভূত এক দেহ ধরি।
করিলে মানুষ লীলা মধুর মাধুরী।।

প্রভু বলে এ রস কৌতুক বুঝিবি কি।
ব্রজ রস পাত্র এ ব্রজের শুকপাখী।।
ব্রজে ছিল সারী শুক শালিক হ’য়েছে।
পূর্বের সাহসে মোর উরুতে বসেছে।।

এ ভাবে বসিবে কেন, না থাকিলে চেনা।
জনমে জনমে থাকে নয়নে নিশানা।।
তমালের ডালে ছিল কোকিলার মেলা।
সারী-শুক বকুলের ডালে করে খেলা।।


বৃন্দাবনে দেখিয়াছি এই সব লীলা।
এই সেই বৃন্দাবন তমালের তলা।।
গোকুলে জন্মিল কৃষ্ণ নন্দঘোষ ঘরে।
বৃন্দাবনে বাস করিলেন গিয়া পরে।।

মায়াপুরী জন্মে হরি শ্রীগৌরাঙ্গরূপে।
লীলা করে গুপ্ত বৃন্দাবন নবদ্বীপে।।
বুঝিয়া দেখিলে এই সেই সেই ভাব।
সফলাডাঙ্গায় ওঢ়াকাঁদি লীলা সব।।

রাম ভরতের পুনরাগমন খণ্ডে বলা হল,
প্রশস্ত গার্হস্থ্য ধর্ম জীবে শিক্ষা দিতে।
হরিচাঁদ অবতীর্ণ হন অবনীতে।।

ব্রাহ্মণ কায়স্থ সাহা শূদ্র সাধু নর।
ছত্রিশ বর্ণের লোক হ’ল একত্তর।।
দ্বিজ নমঃশূদ্র ছিল অকর্মে পতিত।
পতিত পাবন তার করিবারে হিত।।

পঞ্চ অংশে বঙ্গদেশে শেষ লীলা জন্য।
হরিচাঁদ নাম ল’য়ে হ’ল অবতীর্ণ।।

এ সময় আচম্বিতে শব্দ এক হয়।


শূন্য হ’তে শুনা গেল দৈববাণী প্রায়।।

বাণী চিরন্তণী Motivational quotes

Popular Posts

Hindu international Consciousness

ad

Featured Post

পবিত্র বেদ পাঠ,পবিত্র বেদ পাঠ বিভাগ – ॐ সনাতন ধর্মতত্ত্ব পবিত্র বেদের উৎপত্তি ও ইতিহাস

বেদ মাতার ইচ্ছায় বাংলা ভাষায় ঋগ্বেদের মূলমন্ত্র অর্থ ও টীকাসহ প্রকাশের চেষ্টা করা হয়েছে। ধীরে ধীরে এর কলেবর বৃদ্ধি করার চেষ্টা চলতে থাক...